গাউছিয়ায় পাকিস্তানি পোশাকের দাপট, দামে অস্বস্তি ক্রেতাদের
রায়হান হোসেন || রাইজিংবিডি.কম
গাউছিয়া মার্কেটে ড্রেস দেখছেন ক্রেতা। ছবি: রাইজিংবিডি
ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। তবে এবার বাজারে দীর্ঘদিনের ভারতীয় পোশাকের আধিপত্য পেছনে ফেলে পাকিস্তানি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকের দাপট দেখা গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, আভিজাত্যের দোহাই দিয়ে প্রতিটি পোশাকে গত বছরের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়তি দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা, যা সাধারণ ক্রেতাদের ঈদের খুশিতে বড় ধরনের ধাক্কা। তবে বিক্রেতাদের দাবি, ডলারের চড়া মূল্য আর আমদানিতে বাড়তি এলসি খরচের কারণে পোশাকের দাম কিছুটা বেশি।
গাউছিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেটে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের পোশাক কিনতে আসা সাধারণ মানুষের উপচেপড়া ভিড়।
রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গাউছিয়া মার্কেটে ঈদের পোশাক নিতে আসছেন বেসরকারি চাকরিজীবী ইশরাত জাহান। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, "পাকিস্তানি লনের ডিজাইন এবার সত্যিই দারুণ, কিন্তু দাম শুনে হাত দেওয়ার জো নেই। গতবার যে মানের ড্রেস ৩০০০ টাকায় নিয়েছি, এবার সেগুলোর দাম ৫০০০ টাকার নিচে নেই। পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের দোহাই দিয়ে বিক্রেতারা রীতিমতো সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে। পছন্দের ড্রেসটা না কিনেই ফিরে যেতে হচ্ছে। কারণ বাজেট নেই। আর এখন অন্য ড্রেস পছন্দ হবে না।"
ঈদ সামনে ভিড় বেড়েছে মার্কেটে। ছবি: রাইজিংবিডি
নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে ঈদের পোশাক নিতে পরিবারসহ আছেন সাফিয়া আক্তার। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, "দুই মেয়ে ও নিজের জন্য ঈদের পোশাক নিতে আসছি। প্রতি বছরই গাউছিয়া মার্কেট থেকে ঈদের পোশাক নেই, কিন্তু এবার দাম দ্বিগুণ দেখছি। কিন্তু কিছু করার নেই, অনেক কষ্ট করে রোজা রেখে আসছি। তাই বাজেটের মধ্যে যা পাই তাই নিয়ে যেতে হবে। ঈদকে সামনে রেখে বিক্রেতারা সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে ফেলেছে। পাকিস্তানি ড্রেসের প্রতি আমাদের দুর্বলতাকে তারা ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়েছে। এই মার্কেটে ভোক্তা অধিকারের অভিযান পরিচালনা করা উচিত।”
রাজধানীর উত্তরা থেকে ঈদের পোশাক নিতে গাউছিয়া মার্কেটে এসেছেন শারমিন সুলতানা। তিনি রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, "সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানি অর্গানজা আর ডিজিটাল প্রিন্টের বিজ্ঞাপন দেখে গাউছিয়ায় এসেছিলাম। কিন্তু এখানে আসার পর দেখি অনলাইনে বলা দামের সাথে বাজারের দামের কোনো মিল নেই। ঈদকে সামনে রেখে বিক্রেতারা সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে ফেলেছে। গতবছর যেসব ড্রেস ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে নিয়েছি, এবছর একই ড্রেস চাচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এখন উপায় নেই, পছন্দ যেহেতু হয়েছে বেশি দামেই নিতে হবে।
গাউছিয়া মার্কেটের আশফিয়া ফেব্রিক্স এর সত্বাধিকারী আশরাফ উদ্দিন গাজী রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমরা দাম বাড়িয়ে আনন্দ পাই না। ডলারের রেট বাড়ায় এবার পাকিস্তানি ড্রেস আমদানি করতে আমাদের অনেক বেশি খরচ হয়েছে। তার ওপর এলসি জটিলতা তো আছেই। আমরা কম দামে আনতে পারলে কম দামেই ছাড়তাম। ক্রেতারা পাকিস্তানি আভিজাত্য চায়, কিন্তু সেই অনুযায়ী খরচ করতে রাজি হয় না, এটাও আমাদের জন্য বড় সমস্যা। কোনটার দাম বাড়েনি, সবকিছুর দাম বেশি। সুতা থেকে শুরু করে কাপড় তৈরির প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে।”
এবার ঈদে পাকিস্তানি ড্রেসের দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে একই মার্কেটর বস্ত্র বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. রফিক রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “সুতা থেকে শুরু করে পোশাক তৈরির প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে এবার। তাই দাম বাড়তি। মানুষ শুধু দামের কথা বলে, কিন্তু পোশাকের মান আর ডিজাইনের কথা বলে না। এবার ইন্ডিয়ান ড্রেসের চেয়ে পাকিস্তানি ড্রেসের ফিনিশিং অনেক ভালো, তাই চাহিদাও বেশি। কোম্পানি থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, সাথে দোকানের ভাড়া ও কর্মচারীদের বোনাস আছে। সব মিলিয়ে খুব সামান্য লাভেই আমরা বিক্রি করছি।”
গাউছিয়া মার্কেটের মনিরা ফ্যাশন হাউজের বিক্রয়কর্মী বলেন, “এবার দাম কিছুটা বাড়তি। তবে এখন বিক্রি ভালো। অনেক ক্রেতারা দেখে চলে যাচ্ছে। আবার যারা নেওয়ার তাঁরা ঠিকই নিচ্ছে। এবার পাকিস্তানি ড্রেসের চাহিদা বেশি। কারণ এই ড্রেস গুলোর ফিনিশিং ভালো।”
এদিকে, নিউমার্কেট গাউছিয়া ও চাঁদনী চক মার্কেটের ঈদের বাজারকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে করার জন্য অস্থায়ী তথ্য ও সেবা কেন্দ্র চালু করেছে নিউমার্কেট থানা।
ঢাকা/আরএইচ/ইভা