ঢাকা     শনিবার   ০৯ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩ || ২২ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় কারাভোগ করা মোজাফফরের ক্ষতিপূরণের দাবি এনসিপির

ফেনী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১৭:৪৭, ৯ মে ২০২৬
মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় কারাভোগ করা মোজাফফরের ক্ষতিপূরণের দাবি এনসিপির

ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপি

ফেনীতে ধর্ষণ মামলায় মিথ্যা অভিযোগে কারাভোগ করা মসজিদের ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক মোজাফফর আহমদ জুবায়েরের চাকরি পুনর্বহাল, রাষ্ট্রীয় ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি)।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব (ধর্ম ও সম্প্রীতি বিষয়ক সম্পাদক) তারেক রেজা এ দাবি জানান। এ সময় তিনি মোজাফফরের ঋণ পরিশোধ ও পুনর্বাসনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরো পড়ুন:

পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম মোজাফফর আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি এক মাসের বেশি সময় কারাভোগ করেন। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা তার আপন বড় ভাই। তদন্তে উঠে আসে, ভাইকে রক্ষা করতে পরিকল্পিতভাবে ইমামের ওপর দায় চাপানো হয়। পরে কিশোরী জিজ্ঞাসাবাদে সত্য স্বীকার করে এবং ডিএনএ রিপোর্টে শিশুর সঙ্গে কিশোরীর  ভাইয়ের ৯৯.৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। 

এরপর নির্দোষ মোজাফফরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

তারেক রেজা বলেন, ‘‘মসজিদের ইমাম মোজাফফর সাহেবকে যেভাবে ফাঁসানো হয়েছে, তখন তার পাশে কেউ ছিল না। তিনি জেলে ছিলেন, সামাজিকভাবে সম্মানহানির শিকার হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই এবং রাষ্ট্রের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাই।’’ 

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও ফেনী জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, ‘‘ইমাম সাহেবের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ত পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে সামাজিক ও আর্থিকভাবে তিনি যেন সসম্মানে পুনর্বাসিত হতে পারেন, সে ব্যবস্থা আমরা করতে চাই।’’ 

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী মোজাফফর আহমদ জুবায়ের বলেন, ‘‘আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ হয়েও কারাভোগ করেছি। এ ঘটনায় সামাজিকভাবে অপমাণিত হয়েছি, মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারিয়েছি। মামলার খরচ চালাতে বাড়ির পাশের জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত ছিলাম যে এতদিন বিষয়টি কাউকে বলতে পারিনি। এখন মানুষ সত্য জানতে পারছে। আমি কারাভোগ, সামাজিক মর্যাদাহানি ও আর্থিক ক্ষতির ন্যায়বিচার চাই।’’ 

এ সময় এনসিপির জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুহাইমিন তাজিম, যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলে এলাহী চৌধুরী সায়েম, যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আহ্বায়ক পারভেজ আহমেদ এবং ছাত্রশক্তি জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসেন রাফি উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/সাহাব/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়