ঢাকা     শনিবার   ০৯ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৬ ১৪৩৩ || ২১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

শুধু প্রধানমন্ত্রীর এলাকায় উন্নয়ন হবে, এটা ন্যায্যতা না: পরওয়ার 

নীলফামারী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১১, ৯ মে ২০২৬   আপডেট: ১৮:১৭, ৯ মে ২০২৬
শুধু প্রধানমন্ত্রীর এলাকায় উন্নয়ন হবে, এটা ন্যায্যতা না: পরওয়ার 

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

‘‘সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ বা পদক্ষেপে আমরা প্রতিবাদ করি না, বরং উৎসাহিত করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যেখানে বাড়ি, সেখানে নতুন নতুন আদেশ ও বরাদ্দ হয়। শুধু সরকারি দলের লোকজন যেখানে থাকে, সেখানে উন্নয়ন হবে, আর অন্য কোথাও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে না; সেটা তো ন্যায্যতা হলো না।”

শনিবার (০৯ মে) সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। 

আরো পড়ুন:

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছেন। তার সঙ্গে হয়ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীও দিয়েছেন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ ৮৪টি সংস্কারের বিষয়ে, ৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে আপনি ‘হ্যাঁ’ বলেছেন। সেখানে কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারে গণভোটের ৪টি প্রশ্নের ভিত্তিতে যে ভোট হয়েছে, সেখানে নোট অব ডিসেন্ট নেই। এর অর্থ হলো, আপনাদের নোট অব ডিসেন্ট কেতাবে আছে, কিন্তু গণভোট সেটা খারিজ করে দিয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “যে ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, এটা যদি আপনারা না মানেন, তাহলে ১১ দল এই বিষয়কে আবার ওই ৭০ ভাগ মানুষের কাছেই নিয়ে যাবে। ফলে এই আন্দোলন রাজপথে এবং সংসদে একসঙ্গে চলবে। সংকট তৈরি করেছে বিএনপি, সমাধানও করতে হবে বিএনপিকেই। বিএনপি যদি বল খেলতে ভুল করে, তাহলে গোল কিন্তু নিজেদের দিকেই চলে যাবে।”

তিনি বলেন, “উন্নয়নের ব্যাপারে আপত্তি নেই, কিন্তু ন্যায্যতা ও সাম্যের ভিত্তিতে সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘোষণা দিতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় সংসদে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যেসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।’’ 

সাংবাদিকদের হয়রানি ও নিরাপত্তা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের আগে রাজপথে মুক্ত গণতন্ত্র, মুক্ত গণমাধ্যম ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বিএনপি বক্তৃতা করেছে, আমরাও করেছি। বিএনপি এখন ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু যেসব মিডিয়া ও কণ্ঠ সরকারের অপকর্মের বিরোধিতা করে, সেসব মিডিয়া বন্ধ করা হচ্ছে, তাদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এবং তাদের গলা টিপে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমানসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এরপর তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রওয়ানা হন।
 

ঢাকা/সিথুন/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়