ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৪ ১৪৩২ || ২৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদ বাজারে পাঞ্জাবির বেচাবিক্রি এবার ‘ভালোই’

মোহাম্মদ আলী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:২৮, ১৭ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০০:৩১, ১৭ মার্চ ২০২৬
ঈদ বাজারে পাঞ্জাবির বেচাবিক্রি এবার ‘ভালোই’

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর পাঞ্জাবির বাজার এবার জমজমাট; বেচা-বিক্র বেশ ভালো। দাম নিয়ে ক্রেতাদের অস্বস্তি থাকলেও বিক্রেতারা এবার ক্রেতা পেয়ে বেশ স্বস্তিতে। চাঁদ-রাত পর্যন্ত এই কেনাকাটা।

সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকার নিউ মার্কেট হয়ে এলিফ্যান্ট রোড থেকে আজিজ সুপার মার্কেট পর্যন্ত হেঁটে দেখা যায়, পাঞ্জাবির দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। কয়েক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতির মুখে পড়া ব্যবসায়ীরা এবার সেই ঘাটতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন। 

আরো পড়ুন:

সাধারণ রমজানের শেষ সপ্তাহে ঈদের বাজার জমলেও এবার তথ্য কিছু আলাদা। কারণ, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় আগেভাগে ছুটি হয়ে যাওয়ায় কেনাকাটাও শুরু হয় রজমানের প্রথম থেকে। তবে ঈদের চার দিন আগে সোমবার পাঞ্জাবির বাজারে চোখে পড়ার মতো ভিড় ছিল।

পাঞ্জাবির জন্য বিশেষ পরিচিত কাঁটাবনের আজিজ সুপার মার্কেট। সেখানকার বিক্রেতারা বলছেন, রমজামের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঈদের কেনাকাটা চললেও মাঝামাঝি থেকেই ক্রেতার চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের আগ্রহ বেশি নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবিতে। কটন, সফট লিনেন, কাবুলি ও এমব্রয়ডারি করা পাঞ্জাবির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

পাঞ্জাবি ব্যবসায়ীদের মতে, সারা বছর যত পাঞ্জাবি বিক্রি হয়, তার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই বিক্রি হয় রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে। এ ছাড়া পহেলা বৈশাখ ও বিয়ের মৌসুম যুক্ত হলে বছরের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ লেনদেন কয়েকটি নির্দিষ্ট সময়েই সম্পন্ন হয়। ফলে উৎপাদন পরিকল্পনাও মূলত মৌসুমভিত্তিক।

নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের মধ্যে ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকার পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি। তবে বেশি বাজেটের ক্রেতাদের জন্য ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার পাঞ্জাবিও রয়েছে। উন্নত কাপড় ও সুচিকর্মের পাঞ্জাবির দাম পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আবার বহু মূল্যের পাঞ্জাবি আছে, যেগুলোর ক্রেতা ধনিক শ্রেণি।

শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে এক দোকানি বলেন, “ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি। আমরা আশা করছি, সামনে ক্রেতা আরো বাড়বে। তখন বিক্রিও ভালো হবে।” 

তবে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ায় বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। সাদিকুল নামে এক ক্রেতা জানান, নিজের ও দুই ছেলের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে এসেছেন। তবে দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা চিন্তায় আছেন। 

“যেটা পছন্দ হয় সেটার দাম বেশি। ছেলেদেরটা নেব, নিজেরটা হয়তো পুরোনো দিয়েই চালাতে হবে,” বলেন তিনি।

ফাহিমা বেগম নামে আরেকজন ক্রেতা বলেন, “দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। তবে স্বামী ও ছোট ভাইয়ের জন্য যেহেতু এসেছি, পছন্দ হলে কিনে নেব।”

পাঞ্জাবির কেনার ক্ষেত্রে এবার আবহাওয়ার প্রভাব লক্ষ্যণীয়। ক্রেতাদের পছন্দ সুতির পাঞ্জাবি।

সদ্যবিবাহিত মনজিলা জানান, স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে দেবরদের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, “বাজারে নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি এসেছে। আবহাওয়ার কথা ভেবে কটনেরটাই বেশি নিচ্ছি।”

ঈদ সামনে রেখে রাজধানীর আশপাশের শত শত ছোট-বড় কারখানা থেকে শেষ সময়ের সরবরাহ আসছে বাজারে। বিশেষ করে কেরাণীগঞ্জ এলাকার গার্মেন্টস পল্লিতে এখনো ব্যস্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। 

কারখানাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঝারি মানের একটি পাঞ্জাবি তৈরি করতে কাপড়, সেলাই ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা ব্যয় হয়। উন্নত মানের কাপড় ও সুচিশিল্প রাখলে উৎপাদন ব্যয় এক হাজার টাকার বেশি হয়।

এদিকে পাঞ্জাবির বাজারে অনলাইন বিক্রিও দ্রুত বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মোট বিক্রির অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এখন অনলাইনের মাধ্যমে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঞ্জাবি পৌঁছে যাচ্ছে।

দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড যেমন আড়ং, লা রিভ, টুয়েলভ ক্লথিং ও কে-ক্র্যাফট ঈদ উপলক্ষে নতুন সংগ্রহ এনেছে। গরম উপযোগী কাপড় ও আধুনিক কাটের পাঞ্জাবিতে তারা গুরুত্ব দিয়েছে। তবে মোট বিক্রির বড় অংশ এখনো পাইকারি বাজার ও স্থানীয় দোকাননির্ভর।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে দেশের বাইরে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও পাঞ্জাবির চাহিদা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কয়েক কোটি টাকার পাঞ্জাবি পাঠানো হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের আগের দিনগুলোতে ক্রেতার ভিড় আরো বাড়বে। তাতে গত কয়েক বছরের ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়