এলো খুশির ঈদ
ফাইল ফটো
“ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ/ তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি তাগিদ/ তোর সোনাদানা বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ/ দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ।”
জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সুরে কণ্ঠ মিলিয়ে বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে আবারো হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। রাত পোহালেই ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে সারা দেশ।
ঈদ সবার জীবনেই কম-বেশি আনন্দের উপলক্ষ এনে দেয়। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। শুক্রবার (২০ মার্চ) ছিল জুমাতুল বিদা। এদিন পূর্ণ হয়েছে ৩০ রমজান। সুতরাং, শনিবারেই (২১ মার্চ) মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।
শুক্রবার ইফতার শেষ হওয়ামাত্রই মসজিদে মসজিদে ‘ঈদ মোবারক’ ‘ঈদ মোবারক’ বলে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে ঈদ উৎসব। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে ঈদ আনন্দ উদযাপনের বার্তা।
শনিবার সারা দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। এর এক দিন আগে শুক্রবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও পৃতিবীর অন্যান্য প্রান্তের কিছু দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সৌদি আরবে সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের বেশকিছু জেলাতেও ঈদ উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। তারা দেশটির সঙ্গে মিলিয়ে এক দিন আগে রোজাও রাখেন।
ঈদুল ফিতর বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দিনটি মুসলমানদের জন্য বরকতময়ও। এই ঈদের প্রবর্তক হচ্ছেন মানবতার মুক্তির দূত হজরত মোহাম্মদ (সা.)। হিজরি দ্বিতীয় সন থেকে মুসলমানরা ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন।
হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আমাদের উৎসব হলো ঈদ।
ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গোসল-অজু করে পবিত্র হয়ে মিষ্টিমুখ করে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে ঈদের জামাতে শরিক হন। নামাজের পর পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা। এর পর সময়-সুযোগ করে আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়ার ব্যাপার তো আছেই।
ঈদে উপহার ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে বাড়ে হৃদ্যতা। মিলনমেলার এক আবহ তৈরি হয়। এ সময় ধনী-গরিব ব্যবধান থাকে না। ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে আপন করে নেন। এই আনন্দ অনুভূতির কোনো তুলনা হয় না।
ঈদুল ফিতরের মধ্যে ফিতর শব্দের অর্থ ভঙ্গ করা। ঈদুল ফিতরের অর্থ— রোজার সমাপ্তি ঘটানোর আনন্দ। দীর্ঘ এক মাস তারাবির নামাজ, সাহরি, ইফতার, জাকাত-ফিতরা, এবাদত-বন্দেগিসহ সিয়াম সাধনার মধ্যে দিয়ে পার করার পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দারা উপহার স্বরূপ পান এই ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ সর্বজনীন। এই আনন্দ আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের সাফল্যের আনন্দ। এই আনন্দ রূপ নেয় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎসবে।
ঈদ পরকালীন জীবনের জন্য শান্তি ও মুক্তি লাভের এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখামাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের দেহ-মনে। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবার মধ্যে। প্রতিটি প্রাণে দোলা দেয় ঈদ আনন্দ।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছেছেন অধিকাংশ মানুষ। তবে, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন গণমাধ্যমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিজ নিজ কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করবেন।
ঈদ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক, মোড়সহ গুরত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো।
ঈদের দিনে উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হবে হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানায়। সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। টিভি চ্যানেলগুলো ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে সাত দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা, ঈদ ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রগুলো।
জাতীয় ঈদগাহে বরাবরের মতো প্রধান ঈদ জামাতের প্রস্তুতি রয়েছে। এ জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ রাজনীতিক, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি কামনা করেছেন।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/রফিক