ঢাকা     সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৮ ১৪২৯ ||  ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান এক নম্বর অপশক্তি’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৯, ১৪ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২০:০২, ১৪ আগস্ট ২০২২
‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান এক নম্বর অপশক্তি’

জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বিদেশি শক্তির সঙ্গে দেশীয় যে ষড়যন্ত্রকারীরা ছিল, সেখানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এক নম্বর অপশক্তি হিসেবে নেপথ্যে দায়িত্ব পালন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।    

রোববার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিরা ভাড়াটিয়া। রশিদ, হুদারা স্রেফ ভাড়াটিয়া খুনি। মাস্টারমাইন্ড পরাশক্তি, বিদেশি শক্তি বাদ দিলে জিয়াউর রহমান এক নম্বর। তার উচ্চাভিলাষ প্রমাণিত হয়েছিল, যখন কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রে নিজের নাম দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়া শুরু করেছিল। পরে যখন বলা হলো, আপনাকে কে চিনে, আপনি ঘোষণা দেয়ার কে? তখন বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে ঘোষণা দিলো।’

‘এই যে উচ্চাভিলাষ, তখন থেকেই খন্দকার মোস্তাক, বদরুল হুদা, রশিদ, ফারুক, ডালিমদের সঙ্গে একটা যোগসূত্র হলো। তারই প্রমাণ হলো—১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু খুন হয়ে সিঁড়িতে পড়ে আছেন, তখন জিয়াউর রহমান সাড়ে ৪টার দিকে লাইট জালিয়ে শেভ করছেন, তৈরি হবেন; কারণ তার মিশন কমপ্লিট হয়েছে। এখন তাকে যেতে হবে পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর লাশ সিঁড়িতে পড়ে আছে, জিয়াউর রহমান কিছুদিনের জন্য মোস্তাককে ক্ষমতা দিলো। খুনির দায়মুক্তি জিয়ার নির্দেশে পার্লামেন্টে পাঠালো। পরে জিয়াউর রহমান সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে অন্তর্ভুক্ত করলো।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার ক্ষেত্র তৈরিতে তৎকালীন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র যারা গঠন করেছিল, তাদের দায়ী করে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘যে মানুষটি সারাজীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভুলে গিয়ে হাজার বছরের স্বপ্ন যে আমাদের একটা স্বাধীন ভূখণ্ড থাকবে, পরাশক্তি আমাদের শাসন- শোষণ করবে না, সেই বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। সেই মানুষটি দেশ স্বাধীন করার মাত্র এক বছরের মাথায় বাংলাদেশে যেটা ঘটলো, এটা ইতিহাসের অংশ। এখন শুনতে খারাপ লাগলেও মনে রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে কী এমন ঘটল যে বাংলাদেশে একটি দল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে গঠন করার প্রয়োজন হলো? কারা ছিলেন এর পেছনে? কারা নেপথ্যে ছিলেন? সমাজতন্ত্রকে যদি আমরা মনে করি একটা বৈজ্ঞানিক বিষয়, তাহলে তার আগে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র হাজির করেছিল কারা? আমরা জানি। বেঁচে আছেন সিরাজুল আলম খান তাত্ত্বিক নেতা। আরও যারা ছিলেন, তাদের নাম আমি বলছি না। নাম আপনারা সবাই জানেন। তারা মিলে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র করলেন।’

‘পরাশক্তির ইন্ধন ছিল নিশ্চয়ই। তা না হলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনছুর আলীর বাড়ির সামনে জাসদের মিছিল থেকে গুলিবর্ষণ হয় কোন সাহসে? ঈদের জামাতে সংসদ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয় কোন সাহসে? ব্যাংক ডাকাতি করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়, কারা করে? বঙ্গবন্ধুর সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামালকে কারা বদনাম করে। কারা ওই কুড়িগ্রামের পাগল বাসন্তী, তার গায়ে মাছ ধরার ঝাকি জাল, যে জালের দাম তখনকার সময়ে একটি শাড়ির চেয়ে তিন গুণ, সেই জাল তার গায়ে পরিয়ে দিয়ে পত্রিকায় ছাপিয়ে বলে, এই হলো শেখ মুজিবের বাংলাদেশ যেখানে মায়েরা লজ্জা নিবারণের শাড়িও কিনতে পারে না। কারা ওরা? যারা ঢাকার সলিমুল্লাহ হাসপাতালে মরা মানুষের কলিজা খাচ্ছে, সে পাগল, বদ্ধপাগলের ছবি ইত্তেফাকে ছাপিয়ে বলা হচ্ছে, শেখ মুজিবের আমলে মানুষ খেতেও পারছে না।’

পরাশক্তির অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে ভয় করত, জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘তাদের ভাষায় শেখ মুজিবকে হত্যা করা হবে, কারণ শেখ মুজিবকে তারা ভয় পেত। বঙ্গবন্ধুকে তারা ভয় পেত, কারণ বঙ্গবন্ধু ছিলেন হিমালয়ের মতো। বঙ্গবন্ধু তৃতীয় বিশ্বের তৎকালীন বড় বড় নেতাদের সঙ্গে চলতেন। তাকে ভয় করত একাত্তরে পরাজিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা এখন আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র হয়তবা হয়েছে। রাজনীতিতে স্থায়ী কোনো শত্রু-মিত্র নেই, আমরা জানি।’

‘ইতিহাসটা আমাদের তরুণ প্রজন্মের মনে রাখতে হবে। কারা মহান মুক্তি সংগ্রামে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বাঁচানোর জন্য, কারাই বা আরেকটি বহর পাঠিয়েছিল আমাদেরকে রক্ষা করতে। সেটা জানেন, একটা আমেরিকা, আরেকটা রাশিয়া।’

এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার নেপথ্যে ষড়যন্ত্র ও সহায়তাকারীদের খুঁজতে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানান আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক এবং বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন গঠন এখন সময়ের দাবি। কমিশন গঠন করে নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে, আমাদের জানতে হবে, বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যে কি হয়েছিল, কারা পর্দার আড়ালে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই রাতের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কাহিনি আমাদের জানতে হবে।’

‘অনুপ্রবেশকারীরা আওয়ামী লীগকে কোনঠাসা করে রেখেছে’

অনুপ্রবেশকারীরা সত্যিকারের আওয়ামী পরিবারের লোকদের কোনঠাসা করে রেখেছে, অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ‘এই অবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমার সামনে যারা আছেন তরুণ প্রজন্ম, অনেক কাজ সামনে। ১৫ বছর সরকার একটানা ক্ষমতায়, দলের মধ্যে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আমার আগেও আমাদের প্রয়াত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলে গেছেন, দলে অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে। সত্যিই অনেক জায়গায় ঢুকেছে। তাদেরকে আমরাই ঢুকিয়েছি, পদ-পদবি দিয়েছি, আসন দিয়েছি।’

‘তারা আজকে ওইখানে যারা সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগার, বংশগতভাবে আওয়ামী লীগ করে তাদেরকে একদম গোল করে ঘিরে রেখেছে। তাদের আলাদা করে রেখেছে যে তারা আওয়ামী লীগ নয়। যারা অনুপ্রবেশ করেছে, তারাই বলছে, আমরা আওয়ামী লীগার। আর যারা আসল আওয়ামী লীগের, তাদের বাইরে রেখেছে। এই অবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না। আমি জানি, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সমস্ত খবর রাখেন। তিনিও এবার এই সমস্ত বিষয়ে অনেক বেশি নজরদারি করছেন এবং করবেন।’

পারভেজ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়