ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪৩০

মার্কিন ভিসানীতি অবাধ নির্বাচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে: আ.লীগ

এসকে রেজা পারভেজ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৩, ২৫ মে ২০২৩   আপডেট: ২১:৩৯, ২৫ মে ২০২৩
মার্কিন ভিসানীতি অবাধ নির্বাচনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে: আ.লীগ

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে, সেটিকে স্বাগত জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করছে, এই ঘোষণা আওয়ামী লীগ সরকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে মার্কিন এই নীতির ফলে গণতন্ত্র আরও লাভবান হবে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে বলেও মনে করেন দলটির নেতারা। 

বুধবার (২৪ মে) বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা দেওয়া হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেন।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২১২ (এ) (৩) (সি) ধারা অনুযায়ী নতুন যে ভিসানীতি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা, সরকার সমর্থক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত আছেন।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ রাইজিংবিডিকে বলেছেন, ‘মার্কিন এই নীতির ফলে দুটি জিনিস পরিষ্কার হয়েছে—প্রথমত, তারা মনে-প্রাণে চায় আমাদের একটা বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে, আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে হয়। সেটি তারা দেখতে চাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, তারা চাচ্ছে শুধু মুখের কথা না, বাস্তবে একটা চাপ সৃষ্টি করা, যাতে সব দল আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং যাতে কোনো রাজনৈতিক দল কোনো প্রকার বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।’

‘এই দুটি জিনিস আমাদের কাছে সুস্পষ্ট। এতে কী দাঁড়ালো? আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই আমরা। এতে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ চাই। যারাই এতে বাধা সৃষ্টি করবে, সেটি আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জামায়াত হোক, জাতীয় পার্টি হোক; যেকোনো রাজনৈতিক দলই হোক—এর বিপক্ষে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিসার বেলায় স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) ব্যবহার করবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে করবে এটা।’ 

আওয়ামী লীগ সরকারের অবাধ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই মার্কিন নীতি সহায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ। আমরা তো বারবার বলেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বারবার বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচন কমিশনে সরকার কোনো প্রভাব বিস্তার করবে না।’

‘আমাদের লক্ষ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের। সেক্ষেত্রে যারা বাধা সৃষ্টি করতে আসবে.... তারা (বিএনপি) বারবার হুমকি দিচ্ছে, নির্বাচন হতে দেবে না; সেক্ষেত্রে মার্কিন এই ভিসানীতি প্রয়োগের বার্তা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক হবে।’  

মার্কিন এই নীতির ফলে গণতন্ত্র আরও লাভবান হবে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

রাইজিংবিডিকে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই। গণতন্ত্রকে আমরা কোনো অগণতান্ত্রিক পথে হাঁটতে দেবো না। যত বাধাই আসুক, আমরা সেটিকে মোকাবিলা করে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সরকার ও আমাদের দল আওয়ামী লীগ থেকে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। মার্কিন নতুন ভিসানীতি সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষেই।’

তিনি বলেন, ‘সবদিক বিবেচনা করলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তা সরকারি দল হোক বা বিরোধী দল হোক, যারাই বাধাগ্রস্ত করবে, অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে নির্বাচনকে বানচালের যেকোনো ধরনের কর্মকাণ্ড করবে; তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসবে।’

‘এটা আওয়ামী লীগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার যে নির্বাচনী অঙ্গীকার ও প্রত্যয়, তার বিপরীতে যারা নির্বাচন বন্ধ করতে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে, মানুষের ওপর হামলা, জ্বালাও-পোড়াও করছে, তাদের জন্য একটি চরম বার্তা। অর্থাৎ এরা আর এই পথে হাঁটতে পারবে না। নির্বাচনই একমাত্র পথ। নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই গণতন্ত্র রক্ষা হয়, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিতে হয়।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘ভিসা প্রক্রিয়া পরিবর্তন সব নাগরিকের জন্য সমান। এটা আলাদা কোনো দল বা ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়। আমার মনে হয়, ভিসা প্রক্রিয়ার এই পরিবর্তন বিএনপির জন্যও প্রযোজ্য। তারা মানুষ পুড়িয়েছে, গণপরিবহনে আগুন দিয়েছে ও গর্ভবতী মায়ের অ্যাম্বুলেন্স আটকে রেখেছে। এগুলোর কারণে তাদের ভিসা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে, নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া পরিবর্তনে সরকার চাপ অনুভব করছে না।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি নির্বাচনে না আসে, সেটা তাদের বিষয়। তবে আমরা শেষ দিন পর্যন্ত চাইব, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। জনগণ, কূটনীতিক ও প্রশাসনসহ সবাইকে নিয়ে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে।’

পারভেজ/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়