ঢাকা     সোমবার   ১৫ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩১ ১৪৩১

নির্বাচন বর্জনের ডাক দিলেও কর্মসূচি নেই ইসলামী আন্দোলনের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০৩, ৪ জানুয়ারি ২০২৪   আপডেট: ২৩:০৮, ৪ জানুয়ারি ২০২৪
নির্বাচন বর্জনের ডাক দিলেও কর্মসূচি নেই ইসলামী আন্দোলনের

নির্বাচন বর্জনের ডাক দিলেও এর আগে কোনো কর্মসূচি দেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। নির্বাচনের দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানী পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম সংবাদ সম্মেলন করলেও নির্বাচন দেখে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বন্ধসহ পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। দাবিগুলো হলো—৭ জানুয়ারি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করতে হবে, বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নিবন্ধিত ও আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিতে হবে এবং জাতীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করবে এবং রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি সরকারবিরোধী দলগুলোর সব নেতা-কর্মীকে মুক্তি দিতে হবে।

৭ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, যাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে; যারা দুর্নীতি-জুলুম-লুটতরাজকে ঘৃণা করেন, যারা মানুষের অধিকারকে সম্মান করেন, তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। যারা আল্লাহকে ভয় করেন, যারা মাজলুমের বদদোয়াকে ভয় করেন, তারা ভোট দেবেন না। যারা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন, যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের সম্মান করেন, তারা কেউ ৭ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রে যাবেন না।

‘নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলব, আপনারা কেউ এই দেশবিরোধী অবৈধ নির্বাচনে জালিমদের সহযোগিতা করবেন না। প্রশাসনের কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলব, আপনারা জনগণের বিপক্ষে গিয়ে সরকারের কোনো অবৈধ হুকুম তামিল করবেন না। আপনারা কেউ প্রহসনের নির্বাচনে সহযোগিতা করবেন না।’

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এই জনবিরোধী প্রহসনের নির্বাচনে যারা সহযোগিতা করবে, জনগণ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবে না।

রেজাউল করিম বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন আমার-আপনার ভোট জালিয়াতি, ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন লুটতরাজ, জুলুম, খুন, গুম ও অনিয়ম জারি রাখার নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা, ব্যাংকগুলোকে শূন্য করা, চুরি করে কোটিপতি হওয়ার অবৈধ পদ্ধতিকে অব্যাহত রাখতে ক্ষমতাসীনদের পারস্পরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির নির্লজ্জ খেলা। ফলে, এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মানে ক্ষমতাসীনদের সব অন্যায়, জুলুম ও দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়া, যা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।

তিনি বলেন, সরকারের আজ্ঞাবহ দলদাস নির্বাচন কমিশন আগামী ৭ জানুয়ারি প্রহসনমূলক একতরফা নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নির্লজ্জ ও শঠতাপূর্ণ নির্বাচন কেউ কখনো দেখেছে বলে মনে হয় না। ক্ষমতাসীন সরকার ২০১৪ সালে করলো একতরফা প্রহসনের নির্বাচন, ২০১৮ সালে করলো রাতের ভোট আর ২০২৪ সালে এসে করছে ডামি নির্বাচন। নিজ দলের একাধিক প্রার্থী বিভিন্ন নামে দাঁড় করানো, জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনে দাঁড় করানো, কিংস পার্টি গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর অপচেষ্টা করার মতো এই সরকার যা করছে, তাতে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্বাচনের উদাহরণ হয়ে থাকবে এই নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে কত বড় নোংরামি হয়েছে, তার উদাহারণ হয়ে থাকবে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার শর্তে কারাগারে থাকা সকল বিরোধী নেতাকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, কারাগারে থাকা না থাকার মতো যে বিষয় আদালতের ওপরে নির্ভরশীল, তাও এখন এই সরকার কুক্ষিগত করে নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যদি নিজেদের ভালো চান ও দেশের মঙ্গল চান, তাহলে এখনো সময় আছে, নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে পদত্যাগ করে চলে যান। জনগণ আপনাদের নাটক আর দেখতে চায় না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতি ফয়জুল করীম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানি, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, কে এম আতিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, হারুন অর রশিদ, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী, মাওলানা নূরুল ইসলাম আল আমিন, জি এম রুহুল আমিন, মাওলানা শোয়াইব হোসেন, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।

নঈমুদ্দীন/রফিক

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়