ঢাকা     সোমবার   ১৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৩ ১৪৩২ || ২৭ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

প্রবাসী আয়ে ধাক্কা, সিলেটের ঈদবাজারে ক্রেতা বাড়লেও বিক্রি কম

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৮, ১৬ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ২১:৪২, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রবাসী আয়ে ধাক্কা, সিলেটের ঈদবাজারে ক্রেতা বাড়লেও বিক্রি কম

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়েছে সিলেটের ঈদবাজারে

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সিলেট নগরীর মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটার ব্যস্ততা বাড়ছে। বিকেল হলেই নগরের প্রধান শপিং এলাকাগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে থাকে এবং অনেক দোকানেই গভীর রাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। তবে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে মানুষের উপস্থিতি বেশি থাকলেও আগের বছরের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কম। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়েছে এবারের ঈদবাজারে।

সম্প্রতি সিলেট নগরীর আম্বরখানা, জিন্দা বাজার, লামা বাজার, বন্দর বাজার, জেল রোড, নয়া সড়ক ও কুমার পাড়া এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আরো পড়ুন:

ঈদ উপলক্ষে এসব এলাকার মার্কেট ও শপিংমল সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জায়। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আলোয় ঝলমল করে ওঠে পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অনেকেই কেনাকাটায় বের হয়েছেন। 

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্য পোশাক দেখেই কেনাকাটা শুরু করতে দেখা যায়। দোকানে দোকানে ঘুরে পছন্দের পোশাক দেখছেন, দরদাম করছেন ক্রেতারা।

কিশোর ও তরুণদের অনেককে দেখা যায় জুতা কিংবা পোশাকের দোকানে ঘুরে ঘুরে পছন্দের জিনিস খুঁজতে। কেউ পছন্দের পোশাক ট্রায়াল দিয়ে দেখছেন, আবার পছন্দ না হলে নতুন করে অন্য দোকানে খোঁজ করছেন। 

নগরের জিন্দা বাজার, নয়া সড়ক ও কুমার পাড়ার আধুনিক শপিংমলগুলোতে তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের। অন্যদিকে, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি ফুটপাতের বিভিন্ন দোকানে।

বন্দর বাজারের হাসান মার্কেট ও হকার্স মার্কেটে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক, জুতা ও প্রসাধনী কিনছেন ক্রেতারা।

জিন্দা বাজার শুকরিয়া মার্কেটের কর্মচারী তোফায়েল আলম রাইজিংবিডি ডটকমের এ প্রতিবেদককে বলেন, “সিলেটে সাধারণত রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে ঈদের বাজার জমে ওঠে। তবে, এবার রমজানের শুরুর দিক থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের পাঞ্জাবি এবং শিশুদের পোশাকের চাহিদা বেশি। বর্তমানে ক্রেতাদের চাপ অনেক বেড়েছে এবং সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে ভিড় লেগেই থাকে।”

তবে, বাজারে ঘুরতে আসা অনেক ক্রেতাই পোশাকের দাম বাড়ার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

জিন্দা বাজারে একটি বিপণিবিতানে কেনাকাটা করতে আসা নগরের চৌখিদেখি এলাকার বাসিন্দা লোকমান চৌধুরী বলেন, “একই রকম বাজেটে গত বছরের তুলনায় এবার পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় সব ধরনের পোশাকের দাম বেড়ে গেছে। তবু, ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতেই হচ্ছে।”

সুনামগঞ্জ থেকে আসা আমিনুল হক বলেন, “কয়েকটি দোকানে ঘুরে কাপড়ের দাম আগের তুলনায় বেশি মনে হয়েছে। তাই, এখনো কিছু কিনি নাই। দরদাম করে কিনব।”

ব্যবসায়ীরা স্বীকার করছেন যে, গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাদের মতে, জুতার দাম গড়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রসাধন পণ্যের দামও ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে যানজটও বেড়েছে। বিশেষ করে, বন্দর বাজার, হাসান মার্কেট ও মধুবন মার্কেট ও জিন্দা বাজার এলাকায় সারাদিনই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

কেনাকাটা করতে আসা আশরাফুল হক ঝলক বলেন, “সুবিদ বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠেও যানজটের কারণে কয়েকটি পয়েন্টে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়েছে। যেখানে ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব এখানকার ঈদবাজারেও পড়েছে।

নগরের একটি অভিজাত শপিংমলের শাড়ির দোকানের কর্মচারী আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “মানুষ বাজারে এলেও দামি পণ্যের বিক্রি তুলনামূলক কম। অনেক ক্রেতা দরদাম করে ফিরে যাচ্ছেন। প্রবাসীদের অনেক পরিবারের সদস্যরা এখনও কেনাকাটা করতে আসেননি।”

সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা কিছুটা কম হচ্ছে। সিলেটে অনেক পরিবার প্রবাসীদের পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারছেন না, যার প্রভাব পড়েছে ঈদবাজারে।”

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঈদ উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মার্কেটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।”

ঢাকা/রাহাত/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়