তরমুজে নেই ক্রেতা, বিক্রেতাদের হতাশা
ছবি: রাইজিংবিডি
ভরা মৌসুমে তরমুজের সরবরাহ বৃদ্ধি ও দামে ছাড় দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদের ছুটিতে মানুষ গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কারণে ঢাকায় ক্রেতা কম, তাই তরমুজের দাম কমলেও আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর ফলের পাইকারি বাজার বাদামতলী ও কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা তরমুজ বিক্রির জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না।
বাদামতলী ফলে বাজারে পাইকারি আড়তদার সুমন মিয়া বলেন, “এখন তরমুজের মৌসুম। তাই মাঠ থেকে শত শত ট্রাক তরমুজ আসছে প্রতিদিন। আড়তে মাল নামানোর জায়গা নেই। কিন্তু ঢাকার বাইরের পাইকাররা আগের মতো মাল নিতে সাহস পাচ্ছেন না। আগে যে তরমুজ ৩০০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন সেটা ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় নামিয়েছি, তবুও বিক্রি নেই। এবার তরমুজ জোগান বেশি কিন্তু ক্রেতা কম। এমন অবস্থা গত কয়েক বছরে দেখিনি। এই অবস্থা চলমান থাকলে আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাবে।”
কারওয়ান বাজার খুচরা তরমুজ বিক্রেতা মো. হানিফ মোল্লা বলেন, “রোজার সময় মানুষ চড়া দাম দিয়েও তরমুজ খুঁজেছে, আর এখন আমরা পিস হিসেবে কম দামে ডেকেও ক্রেতা পাচ্ছি না। আড়ত থেকে যে দামে কিনে এনেছি, এখন সেই কেনা দামও উঠনোই কষ্ট।গরম বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মধ্যে আগের সেই আগ্রহ নেই। তরমুজ পচনশীল মাল, দুই-তিন দিন দোকানে পড়ে থাকলে ভেতরে শুকিয়ে যায়। এভাবে চললে এবার বড় অংকের লোকসান গুনতে হবে। তবে আশা করছি ঈদের ছুটি শেষ হলে যখন ঢাকায় পুরোপুরি মানুষ এসে যাবে তখন বিক্রি বাড়তে পারে।”
রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের সামনে ভ্যান তরমুজ বিক্রি করেন মো. সোরহাব হোসেন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আজ মানুষের তরমুজের চাহিদা কম। অনেকে শুধু দাম জিজ্ঞেস করে চলে যায়, ভাবে আমরা বুঝি এখনো বেশি দাম রাখছি। অথচ এখন অনেক বড় তরমুজও হাতের নাগালে। আগে কেজিতে বেচতাম বলে বদনাম ছিল, এখন পিস হিসেবে ছেড়ে দিচ্ছি। তবুও মানুষ নিচ্ছে না। গরম বাড়লে আর ঢাকায় মানুষের সমাগম স্বাভাবিক হলে বিক্রি কিছুটা বাড়ার আশা করছি।”
বাদামতলীতে তরমুজ সংগ্রহ করতে আসা মাহফুজুর রহমান হিমু রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “রোজার সময় তরমুজের দাম যেভাবে আকাশচুম্বী করা হয়েছিল, সেটা ছিল চরম জুলুম। দাম কমলে কি হবে, বাজারে এখনো স্বচ্ছতা ফেরেনি।”
কারওয়ান বাজারের তরমুজ ক্রয় করতে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুহিন খান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমি বাসার জন্য তরমুজ নিতে আসছি। এখন বাজারে তরমুজ তো প্রচুর, কিন্তু ভালো মানের ফল পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বেশি দাম দিয়েও ভেতরে সাদা বা পানসে তরমুজ পাই। এখন দাম কমেছে শুনছি, কিন্তু বিক্রেতারা যখন মালের গায়ের ওজনের ভয় দেখায়, তখন আর কিনতে ইচ্ছা করে না। ভোক্তা অধিকারের উচিত শুধু দাম নয়, গুণগত মান এবং ওজনের কারচুপিও কঠোরভাবে তদারকি করা।”
তদারকির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও প্রচার) আফরোজা রহমান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “বন্ধের পর আজ আমাদের প্রথম অফিস। আজকে অভিযান পরিচালনায় কোনো টিম নেই। তবে শিগগিরই আমাদের টিম কাজ শুরু করবে।”
ঢাকা/রায়হান/সাইফ
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে