‘জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার হাইপ তৈরি হয়েছিল, মানুষ বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে’
বৃহস্পতিবার পিআইবি অডিটোরিয়ামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষ ভুল করেনি। নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবী ও পত্রিকাগুলোর একটি অংশ এমন একটি হাইপ তৈরি করেছিল যে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় চলে যাচ্ছে এবং তারাই সবচেয়ে বেশি ভোট পাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ তাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার পিআইবি অডিটোরিয়ামে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশের প্রয়োজনে যাকে কেউ চিনত না, যাকে অখ্যাত মেজর বলে আওয়ামী লীগের লোকজন বিদ্রুপ করত, সেই মেজর জিয়াউর রহমানই এমন এক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, যখন গোটা দেশের মানুষ যুদ্ধের ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ তখন একমত হয়ে গিয়েছিল যে পাকিস্তানের সঙ্গে আর থাকা যাবে না এবং যুদ্ধ করতেই হবে। সেই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।”
তিনি বলেন, “১৯৭০ সালের নির্বাচনে মানুষ যে ভোট দিয়েছিল, তা কেবল একটি দলের জন্য নয়, বরং পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছিল।”
বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না; বরং যে আদর্শে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই আদর্শকেই আরও শক্তিশালী করতে চাই।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘সবার আগেই বাংলাদেশ’ স্লোগানের মধ্যেই সেই দর্শন নিহিত রয়েছে।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তিনি এমন এক সময়ে রাজনীতির নেতৃত্বে এসেছিলেন, যখন দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল। সে সময় বিভাজনের রাজনীতি না করে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতকে একত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রথমে ফ্রন্ট, পরে জাগদল এবং পরবর্তীতে বিএনপি গঠনের মাধ্যমে জাতীয় পুনর্মিলনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন।”
তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কারও শত্রু বানাতে চাননি; বরং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফলও হয়েছিলেন।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল বাংলাদেশের মানুষকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখানো। মানুষ কোনো আধিপত্যের অধীনে নয়, বরং স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়।”
ঢাকা/নজরুল/ইভা