Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ৯ ১৪২৮ ||  ১২ জিলহজ ১৪৪২

চোখের পানি কমে যাওয়ার ৮ লক্ষণ

এস এম গল্প ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ১১ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১০:৫০, ১১ ডিসেম্বর ২০২০
চোখের পানি কমে যাওয়ার ৮ লক্ষণ

কাজের জন্য একটানা তাকিয়ে থাকতে হয় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের দিকে। বাসায় ফিরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সরব থাকার কারণে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপেই চোখ আটকে। অথবা দীর্ঘ সময় টিভির পর্দায় বুঁদ রয়েছেন কিংবা ভিডিও গেম খেলায় মশগুল? এতে যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আপনার চোখ, সে দিকে লক্ষ্য রাখছেন কি? চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অনেক মানুষ। ড্রাই আইজ় ডেকে আনতে পারে অন্ধত্বও। ড্রাই আইজ় বা শুষ্ক চোখের সমস্যার একাধিক কারণের মধ্যে একটানা অনেকক্ষণ স্ক্রিনে আটকে থাকাকে চিকিৎসকেরা প্রধান কারণ বলে মনে করছেন।

চোখ শুকিয়ে গেলে চুলকাতে পারে, লাল হতে পারে ও ব্যথা করতে পারে। কিন্তু গবেষকরা আরো জানান যে চোখের শুষ্কতা থেকে স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। চোখে যথেষ্ট পানি না থাকলে চক্ষু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া তীব্র শুষ্কতার চিকিৎসা না করলে চোখে প্রদাহ, কর্নিয়ার পৃষ্ঠে ঘর্ষণ, কর্নিয়ায় ক্ষত ও দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। তাই চোখের শুষ্কতা অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। এখানে শুষ্ক চোখের আটটি লক্ষণ দেয়া হলো।

* চুলকানি: প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষেরই চোখ শুকিয়ে গেলে লক্ষণ হিসেবে চুলকাতে পারে। কিন্তু আমরা উপসর্গটিকে অবহেলা করে চোখের আরো ক্ষতি করে থাকি। চোখের শুষ্কতায় প্রকাশিত উপসর্গের (যেমন- চুলকানি) চিকিৎসা না করলে চোখে ব্যথা, চোখে ক্ষত, কর্নিয়ায় আঘাত, ঝাপসা দৃষ্টি ও তীব্র পর্যায়ে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। চোখ শুষ্ক হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে, যেমন- পরিবেশগত প্রভাব, কম্পিউটারের ব্যবহার, বয়স বেড়ে যাওয়া, কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার ও এসজগরেন সিন্ড্রোমের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা। যেকারণেই চোখ শুকিয়ে যাক না কেন, একটি সাধারণ উপসর্গ হলো চুলকানি। মূলত চোখে মসৃণতার অভাবে চুলকানি অনুভূত হয়। চুলকানিতে মানুষের একটি সহজাত প্রবণতা হলো চোখ ডলা, কিন্তু এতে চোখ আরো উক্ত্যক্ত হয়।

* জ্বালাপোড়া: শুষ্ক চোখের আরেকটি প্রচলিত উপসর্গ হলো চোখে জ্বালাপোড়া অথবা কিছু ফুটেছে প্রকৃতির অনুভূতি। চোখ শরীরের সংবেদনশীল অংশ বলে সেখানে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হলে আপনি সম্ভবত প্রথমে চিকিৎসককে দেখাতে চাইবেন, কিন্তু মাঝেমধ্যে এসব উপসর্গ দেখা দিলে ওটিসি রিওয়েটিং ড্রপস ব্যবহারে উপশম পাওয়া যায় কিনা দেখতে পারেন।

* লালতা: স্কিন র‌্যাশ ওঠলে ত্বক যেমন লাল হয়, তেমনি চোখ শুকিয়ে গেলে চোখও লাল হতে পারে। চোখ উক্ত্যক্ত হলে লাল হবে এটাই স্বাভাবিক। ক্যালিফোর্নিয়ার ফাউন্টেন ভ্যালিতে অবস্থিত অরেঞ্জ কোস্ট মেমোরিয়াল মেডিক্যাল সেন্টারের অফথালমোলজিস্ট বেঞ্জামিন বার্ট বলেন, চোখের শুষ্কতা জনিত লালতা দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর হলো লুব্রিকেন্ট আই ড্রপস।

* আলোক সংবেদনশীলতা: চোখ শুষ্ক হলে আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। শুষ্কতা যত বাড়বে, উজ্জ্বল বা কৃত্রিম আলোকে তত অসহ্য লাগতে পারে। শুষ্কতায় সেই প্রোটেকশন কমতে থাকে যা চোখকে বিভিন্ন ধরনের আলো খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে। আপনার আলোক সংবেদনশীলতা (ফোটোফোবিয়া) থাকলে সানগ্লাস পরে উপকার পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল আই ইনস্টিটিউটের মতে, সানগ্লাস পরলে চোখের পানির বাষ্পীভবন ধীর হয়। এছাড়া সানগ্লাস অসহনশীল আলোকে সহনশীল করে।

* অস্পষ্ট দৃষ্টি: দীর্ঘসময় চোখ শুষ্ক থাকলে এটা শেষপর্যন্ত দৃষ্টিশক্তিতে প্রভাব ফেলে। শুষ্ক চোখে কর্নিয়াল ক্যালাস গঠিত হয়। এটা দৃষ্টিকে বাধাগ্রস্ত করে, যার ফলে কিছু দেখতে ঝাপসা লাগে। এটার চিকিৎসা না করলে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই দৃষ্টিশক্তি অটুট রাখতে বা অন্ধত্ব এড়াতে চোখের শুষ্কতা প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকতে হবে।

* ব্যথা: শুষ্ক চোখের আরেকটি সম্ভাব্য উপসর্গ হলো চোখে ব্যথা করা। দীর্ঘসময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে অথবা কষ্ট করে কিছু পড়লে চোখে ব্যথা করতে পারে। স্ক্রিনের দিকে তাকালে পলক ফেলার হার কমে যায়। এর ফলে চোখের পানির বাষ্পীভবন বেড়ে যায়, যেকারণে চোখ শুকিয়ে যায়। সাধারণত লোকজন প্রতি ১০ সেকেন্ডে চোখের পলক ফেলে। যখন আমরা পলক ফেলি, আমাদের চোখ ‘টিয়ার ফিল্ম’ নিঃসরণ করে- এটা চোখকে প্রশান্তি দেয়। কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে পলক সংখ্যা কমে যায় বলে টিয়ার ফিল্ম কম নিঃসরিত হয়, যার ফলে চোখ শুকিয়ে যায়।

* কিছু পড়েছে অনুভূতি: চোখ শুষ্ক হলে ন্যাচারাল লুব্রিকেশন বা প্রাকৃতিক মসৃণতা কমে যায়। তখন চোখে কিছু পড়েছে প্রকৃতির অনুভূতি হয়। উদাহরণস্বপ, আপনার চোখ শুষ্কতায় ভুগলে চোখে বালু পড়লে যেরকম অনুভূতি হয় সেরকম অনুভব হতে পারে। এসময় চোখ ডলতে ইচ্ছে হতে পারে, যা চোখে ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে। চোখে কিছু পড়েছে প্রকৃতির অস্বস্তি হলে প্রিজারভেটিভ ফ্রি রিওয়েটিং আই ড্রপস ব্যবহার করতে পারেন।

* চোখ থেকে পানি পড়া: শুষ্ক চোখের সবচেয়ে বিস্ময়কর উপসর্গ হলো চোখ থেকে পানি পড়া। যে কারো মনে কৌতূহল জাগতে পারে যে শুষ্ক চোখ থেকে পানি ঝরে কীভাবে? এর ব্যাখ্যা দেন ডা. বার্ট, ‘যদি চোখ থেকে পানি গড়িয়ে গালে পড়ে, তাহলে এর মানে হলো- টিয়ার ফিল্ম চোখকে যথেষ্ট আর্দ্র করতে পারছে না। তাই শরীর শুষ্ক চোখকে আর্দ্র করতে জরুরি ভিত্তিতে অশ্রু উৎপাদন করে। এর ফলে চোখের পানি বেড়ে গিয়ে গড়িয়ে পড়ে।’ শুষ্ক চোখের লক্ষণ প্রকাশ পেলে প্রিজারভেটিভ ফ্রি আই ড্রপস/জেলস/অয়েন্টমেন্টস ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজনে সানগ্লাস পরুন। চোখের শুষ্কতা বাড়াতে পারে এমন পরিবেশ এড়িয়ে চলুন (যেমন- ফ্যানের সামনে অথবা ভেন্টের নিচে বসে থাকা)। ঘরের বাতাসকে আর্দ্র করতে হিউমিডিফাইয়ার ব্যবহার করুন। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সময় চোখের পলক ফেলুন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়