যে ভিটামিনের অভাবে ক্লান্তি বাড়ে
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: প্রতীকী
ক্লান্তি বা ঘুমের অভাব এখন খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু অনেক সময় এই সাধারণ লক্ষণই ইঙ্গিত দেয় যে শরীরের ভেতরে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। ক্লান্তির পেছনে যেমন হরমোনের ওঠানামা দায়ী হতে পারে, তেমনি শরীরে বিভিন্ন ভিটামিনের ঘাটতিও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন কে বা বি-কমপ্লেক্স নিয়ে সাধারণত বেশি আলোচনা হয়। তবে অনেক সময় শরীরে ভিটামিন বি১ (থিয়ামিন)-এর অভাবও দেখা দিতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় এই ভিটামিনের মাত্রা কমে গেলে শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন হয়ে পড়ে। সমস্যার বিষয় হলো, এই ভিটামিনের ঘাটতি শনাক্ত করার জন্য সচরাচর পরীক্ষা করা হয় না এবং এ বিষয়ে সচেতনতা তুলনামূলক কম।
থিয়ামিন শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিটামিন। এটি কার্বোহাইড্রেট বিপাক প্রক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হৃদ্পিণ্ডের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতেও এর ভূমিকা রয়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫ মিলিগ্রাম থিয়ামিন প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে থিয়ামিনের অভাব হলে ক্লান্তি তো থাকেই, পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, খিটখিটে মেজাজ এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। তবে এই উপসর্গগুলো অনেক সময় মানসিক চাপ বা অন্য সাধারণ সমস্যার সঙ্গেও মিল থাকে। ফলে রোগী বা চিকিৎসক— কারও পক্ষেই সহজে বোঝা যায় না যে সমস্যাটি থিয়ামিনের অভাবজনিত কি না।
থিয়ামিনের অভাবের কারণ
অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট ও শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে থিয়ামিনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ময়দা, চিনি বা সিম্পল কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে সেগুলো থেকে শক্তি উৎপাদনের জন্য শরীরের বেশি থিয়ামিন প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই চাহিদা অনুযায়ী ভিটামিন সরবরাহ না হলে শরীরে ঘাটতি তৈরি হয় এবং ক্লান্তি বাড়তে থাকে।
এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানও থিয়ামিনের অভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
কোন কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন
থিয়ামিনের ঘাটতির প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো—
খিদে কমে যাওয়া
ঘুম না হওয়া
খিটখিটে মেজাজ
সব সময় ক্লান্ত লাগা
স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া
স্নায়বিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া
ঘাটতি যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং মাত্রা বেশি হয়, তাহলে বেরিবেরি নামক গুরুতর রোগও হতে পারে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
থিয়ামিনের অভাব এড়াতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি—
নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে
অতিরিক্ত চিনি ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার কমাতে হবে
খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে বাদাম, টাটকা সবজি, দানাশস্য, কড়াইশুঁটি, সয়াবিন ও সামুদ্রিক মাছ
ঘাটতি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে
অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা প্রয়োজন
সুষম খাদ্যাভ্যাস ও সচেতনতা বজায় রাখলে শরীরে থিয়ামিনের ঘাটতি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং ক্লান্তির মতো সমস্যাও অনেকটাই কমে আসতে পারে।
ঢাকা/লিপি