এমন অদ্ভুত লাল কার্ড আগে দেখেনি ফুটবল বিশ্ব!
কোন ফাউল না করে, কারও সাথে শরীর স্পর্ষ না করে এমনকি কাউকে কড়া কোন কথা না বলেও লাল কার্ড দেখার একমাত্র নজির আজ (শনিবার, ২০ জুন) ঘটল ফুটবলে। তাও আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে! ঘটনা কি আসলে?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রচলিত নতুন এক নিয়মের কারণে লাল কার্ড দেখলেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। তুরস্কের বিপক্ষে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় মুখ ঢেকে কথা বলায় তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি।
সান ফ্রান্সিসকোর বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। মাঝমাঠের কাছে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে আলমিরন ও তুরস্কের ডানপ্রান্তের ডিফেন্ডার মের্ত মুলদুরের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আলমিরন মুখ ঢেকে কিছু বলেন, যা দেখে সঙ্গে সঙ্গে রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মুলদুর। এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টন ভিএআরের সহায়তা নেন এবং ভিডিও রিপ্লে পর্যালোচনা শেষে সরাসরি লাল কার্ড দেখান আলমিরনকে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) নতুন একটি নিয়ম চালু করেছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কথা বললে তাকে লাল কার্ড দেখানো যেতে পারে। আর এই নিয়মের অরথম বলির পাঠা আলমিরন।
মূলত সম্ভাব্য বর্ণবাদী বা আপত্তিকর মন্তব্য আড়াল করার প্রবণতা ঠেকাতেই নিয়মটি আনা হয়েছে। গত মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ও রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে বিতর্কিত একটি ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয় আইএফএবি। নতুন নিয়মে বন্ধুত্বপূর্ণ বা স্বাভাবিক আলাপচারিতার সময় মুখ ঢেকে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে কোনো ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এমন আচরণ করলে সেটি সরাসরি লাল কার্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। তবে তিনি বলেন, ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে তার মনে হয়েছে যেন সবকিছুই দলের বিপক্ষে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি প্যারাগুয়ের তৃতীয় লাল কার্ড। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে কার্লোস পারেদেস ও রবার্তো আকুনা লাল কার্ড দেখেছিলেন। এছাড়া চলমান বিশ্বকাপে এটি সপ্তম লাল কার্ড, যা ২০১৪ সালের পর এক আসরে সর্বোচ্চ।
ম্যাচটির শুরুতেই ইতিহাস গড়েছিল প্যারাগুয়ে। খেলা শুরুর মাত্র ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের মাথায় মাতিয়াস গালারজার গোলটি চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে।
পরে ১০ জন নিয়ে দীর্ঘ সময় খেলেও সেই এক গোলের ব্যবধান ধরে রাখে প্যারাগুয়ে। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখে তারা, আর টানা দ্বিতীয় হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয় তুরস্কের।
হাম উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু