ঢাকা, রবিবার, ১ পৌষ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

নেটে আউট তো ম্যাচেও আউট!

ইন্দোর থেকে ইয়াসিন হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-১৪ ৩:৪০:৫৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-১৪ ৫:১০:২৬ পিএম

ইংরেজিতে একটি কথার চল আছে, ‘ওয়ার্ক হার্ড, প্লে হার্ড’।

বিরাট কোহলি যেন এমন সরল বিশ্বাসে বিশ্বাসী। ২২ গজে তার ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। দৃঢ় চেতা মনোভাব, আগ্রাসন আর ব্যাটিং নৈপুণ্যে বিরাট কোহলি অসাধারণ, অকল্পনীয়। উইকেটে তার পদার্পণ মানেই রানের ফুলঝুরি। তাতে এলোমেলো হয়ে যায় কোনো শক্তিধর বোলিং আক্রমণ। নির্বিষ হয়ে পড়েন বোলাররা। ভেস্তে যায় দলের পরিকল্পনা।

রঙিন হোক আর সাদা পোশাক, কোহলির ব্যাটিং চরিত্রটাই অভিন্ন। কিন্তু এ ধ্রুপদী অর্জনের পেছনে রয়েছে নিরলস পরিশ্রমের গল্প। যেখানে কোহলি ছাড় দেননি এতটুকু জায়গা। কোহলির সাফল্যের রহস্য কী? অনেকেই জানতে চান। অনেকেই তা আয়ত্ব করতে চান।

ইন্দোর টেস্টের আগে এক প্রশ্নের জবাবে কোহলি যা বললেন, তাতে যা দাঁড়ায়, ‘অনুশীলনের উইকেটকে ম্যাচ উইকেট বানিয়ে নাও। নেট বোলারদের মনে করো আন্তর্জাতিক কোনো বোলার। তাতেই হবে।’ কোহলি মাঠে যেমন, নেটেও তেমন। মাঠে যেমন বলের মান অনুযায়ী ব্যাটিং করেন, নেটেও তাই।

দেশের মাটিতে ভারতের খেলা হয় ভেন্যু রোটেশন পলিসি (ভিআরপি) অনুযায়ী। ফলে বিভিন্ন শহর ঘুরে খেলার সুযোগ পায় ভারত। আর যে শহরে দল যায় সেখানকার স্থানীয় বোলাররা ডাক পান নেটে। ফলে নিত্যদিন নতুন নতুন বোলারকে খেলার সুযোগ মেলে কোহলি, রোহিতদের। স্পিনার, পেসারদের সমন্বয়ে আক্রমণ তৈরি করে সাজানো হয় ব্যাটিং সেশন। কোহলির একেকটি ব্যাটিং সেশন যেন টেস্টে এক সেশন ব্যাটিংয়ের মতো! কোহলি বিশ্বাস করেন, নেটে আউট তো ম্যাচেও আউট। এতটাই নিখুঁত তার অনুশীলন।

নেটে নামলে কোহলি খুঁজে পান প্রাণ। নেট বোলাররা তাকে দেন প্রস্তুতির সেরা মঞ্চ। কীভাবে? শুনুন ভারত অধিনায়কের মুখ থেকে, ‘নেটে বোলারদের উত্তেজনা ও আগ্রহ দেখতে খুব ভালো লাগে। তাদের বিপক্ষে খেলা খুব উপভোগ করি। নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে আউট করার চেষ্টা করে। তাতে হয় কী, আমি ম্যাচ পরিস্থিতি পেয়ে যাই অনুশীলনেই। নেটে প্রায়ই আমি ভালোমানের বোলার পেয়ে থাকি। তাদের বিপক্ষে খেলে আমার ব্যাটিংয়েও উন্নতি হয়। আপনি যখন নেটেই ভালোমানের বোলারদের বিপক্ষে খেলবেন তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আপনার জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। আবার অনেক সময় ওরা আমাকে আউট করে উল্লাসও প্রকাশ করে। আমি বিষয়টিকে উপভোগ করি এবং তখন মনে হয় আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটারদের মান বেশ ভালো।’

ভারতীয় দলের নেট সেশন এখন উন্মুক্ত। স্টেডিয়ামে নেট সেশন দেখতে পারেন অনেকেই। কিন্তু একটা সময় তারকা ক্রিকেটারদের নেট সেশন দেখতে কোহলি অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন। নিরাপত্তার কড়াকড়িতে তখন মাঠে ঢুকতে দেওয়া হতো না তরুণ ক্রিকেটারদের। শৈশবের কথা মনে করে আক্ষেপ ঝরল কোহলির কন্ঠে।

মুখে হাসি রেখে কোহলি সেসব গল্প শুনিয়েছেন, ‘সত্যি বলতে আমাদের সময়ে আমরা এতটা (খেলোয়াড়দের কাছাকাছি যাওয়ার) স্বাধীনতা পাইনি। রঞ্জি ট্রফিতে খেলা খেলোয়াড়দের কাছাকাছি যাওয়া ছিল অনেক বড় বিষয়। তাদের নেট অনুশীলন দেখা তো আরও বড় কিছু। যখন অনূর্ধ্ব-১৪ বা ১৫ ক্রিকেট দলে ছিলাম, কোটলা স্টেডিয়ামের পেছনের গেট দিয়ে ঢুকে অনুশীলন দেখার চেষ্টা করতাম। এখন খুব সহজে ওরা খেলোয়াড়দের কাছাকাছি আসছে, নেট দেখছে, এটা সত্যিই দারুণ এবং ইতিবাচক দিক। খেলোয়াড়দের চালচলন, নেটে ব্যাটিং, ভারসাম্য; এগুলো যদি আমরা কাছ থেকে দেখতে পেতাম তাহলে খুবই উপভোগ করতে পারতাম।’

তবে তরুণদের বর্তমান সহজলভ্যতায় বেশ খুশি কোহলি এবং যারা তার কাছে এসে শেখার আগ্রহ দেখায়, তাদের সঙ্গও উপভোগ করেন এই মাস্টারক্লাস, ‘ভালো দিক যে ওরা আমাদের নেট দেখছে। অনেকেই পেছনে দাঁড়িয়ে অনুসরণ করে। আবার অনেকেই ভিডিও ধারণ করে চিৎকার করে। তবে যারা ক্রিকেটার হতে চায়, ভালো কিছু শিখতে চায় তারা এসে কথা বলে, টিপস নেয় এগুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। মাঝে মাঝে কেউ কেউ এসে জিজ্ঞেস করে, আপনি নেটে আজ কী নিয়ে কাজ করলেন? কোন ভুলগুলো শুধরালেন? এগুলো শুনতে ভালো লাগে।’

আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম, জেদের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছেন আজকের এই বিরাট কোহলি। পেছনে রয়েছে নেট বোলাদের অকৃত্রিম চ্যালেঞ্জ।


ইন্দোর/ইয়াসিন/পরাগ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন