ঢাকা, সোমবার, ৩ পৌষ ১৪২৫, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:
লেখকের অটোগ্রাফ-এক

স্বপ্নবাজ সুমন্ত আসলাম

: রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৪-০২-০৮ ৫:৫৬:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৬-০৯-০৫ ৩:০৮:৫৯ এএম

ফাতমা খান
ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি : সুমন্ত আসলাম। এখনকার তরুণ পাঠকের কাছে ‘প্রিয় লেখক’ নাম এটি। দু’চোখ ভরা স্বপ্ন তার। দেশ, জাতি, সমাজ, মানুষ সবাইকে নিয়েই তিনি স্বপ্ন দেখেন। সবার ভালো থাকার স্বপ্ন দেখেন। অনেক ভালোবাসা নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। আর, সে সব স্বপ্নের বীজ তিনি বপন করেন পাঠকের মনেও। তাইতো কাছের বন্ধুরা তাকে বলে স্বপ্নবাজ।

নাম : সুমন্ত আসলাম
বাবার নাম : মরহুম সোহরাব আলী তালুকদার
মায়ের নাম : রওশনারা পারুল
জন্ম তারিখ : ১ ডিসেম্বর
জন্মস্থান : সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা : ৭২টি

তিনি জন্মেছেন সিরাজগঞ্জে। নিজেই জানালেন, অসম্ভব দুষ্ট ছিলেন তিনি ছেলেবেলায়। ঘুড়ি উড়ানো আর লাটিম ঘুরানোর স্মৃতিঘেরা ছেলেবেলা তার। অনেক আনন্দময় শৈশব ও কৈশর কাটিয়েছেন। তবে এখন বড়বেলায় এসেও সেই আনন্দে ভাটা পরেনি এতটুকুও। সব সময় তিনি আনন্দে থাকেন। তার দাবী বাংলাদেশে যদি ১০০ জন মানুষ থাকেন যারা আনন্দ নিয়ে বেঁচে আছেন তার মধ্যে তিনিও একজন। বিষয়টা ভাবতেও তার খুব ভালো লাগে।

আর, নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করেন এই কারণে যে তার বাড়িতে একটি পারিবারিক লাইব্রেরি ছিলো। সেই সূত্রেই ছেলেবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছে। সেই লাইব্রেরিতে নানারকমের বই ছিলো। কিন্তু ছোটবেলায় তাকে সবচেয়ে আলোড়িত করেছে ‘তিন গোয়েন্দা’।

লেখালেখির শুরু সম্পর্কে জানান, ‘লেখালেখির শুরু ঢাকায় আসার পরে। ‘মৌচাকে ঢিল’ (যায় যায় দিনেরও আগে প্রকাশ হত) শিরোনামের পত্রিকায় গল্প ছাপা হত। সেই গল্প পড়ে এবং সেবা প্রকাশনীর কিশোর পত্রিকা পড়ে পড়ে মনে হলো আমিও গল্প লিখতে পারবো। এটা ১৯৯৬ সালের দিকের কথা। তখন ভোরের কাগজের পাঠক ফোরাম ছিলো। সেই পাঠক ফোরামে ভালো লেখার জন্য ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড পুরস্কার দেয়া হতো। আমি পরপর কয়েকবার সেই পুরস্কার পেয়ে গেলাম। তখন মনে হলো আমার লেখা মানুষ পছন্দ করবে। সুতরাং, লেখালেখিটা করাই উচিৎ। মূলত সেই থেকেই শুরু। আর প্রথম বই প্রকাশ হয়েছিলো সময় প্রকাশন থেকে। ছোটগল্পের বই ‘স্বপ্নবেড়ি’।”

সুমন্ত তার পেশা সম্পর্কে জানান, লেখালেখিই এখন তার পেশা। নেশাও। কারণ, এই কাজটাকে অনেক উপভোগ করেন তিনি। এক সময় জড়িয়ে পরেন সাংবাদিকতায়। দেশের জনপ্রিয় একটি সংবাদপত্রে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। এখনও কাজ করছেন সংবাদপত্রেই। তার মতে সাংবাদিকতার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, এই পেশায় থেকে মানুষের অনেক উপকার করা সম্ভব। অনেক পেশার মানুষের পক্ষেই যা করা সম্ভব হয় না।

নতুনদের সম্পর্কে তিনি বলেন, এখনকার তরুনদের যে বিষয়টি হয়েছে তা হচ্ছে তারা ইচ্ছে করলেই বই বের করে ফেলতে পারছেন। ফলে এর মর্মটা অনুধাবন করতে পারছেন না। বিষয়টা হয়েছে কি, আমি যদি ইচ্ছে করলেই আকাশ ছুঁতে পারি তবে তো আমার আকাশ ছোঁয়ার আনন্দই থাকবে না। এখনকার লেখকদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই হয়েছে।

তবে, নতুনদের লেখা পরতে আমার ভালো লাগে। আর একটা ব্যাপার হচ্ছে আমি যে লেখাই পরি না কেন যদি প্রথম অংশটা পরে আমার ভালো লাগে তবে আমি সম্পূর্ণ লেখাটাই পড়ি। সেটা যার লেখাই হোক আর যে কোন ধরণের লেখাই হোক না কেন।

এবারের মেলায় তার লেখা বই প্রকাশ হচ্ছে মোট নয়টি। যার মধ্যে তিনটি উপন্যাস, দু’টি কিশোর উপন্যাস, রম্য-বিদ্রুপ আর গল্পের বই একটি করে এবং দু’টি সমগ্র।

‘আশ্চর্য তুমিও!’, ‘মাঝরাতে সে যখন একা’, ‘মহাকিপ্পন’ নামের উপন্যাস তিনটি যথাক্রমে প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন, পার্ল পাবলিকেশন্স এবং কাকলী প্রকাশনী। কিশোর উপন্যাস ‘রোল নাম্বার শূন্য’ -এনেছে অনন্যা, ‘শত্রুর কবলে পাঁচ’ গোয়েন্দা এনেছে কাকলী প্রকাশনী। গল্পের বই ‘কেউ একজন আসবে বলে’ প্রকাশিত হয়েছে অনন্যা থেকে। তার লেখা বহুল জনপ্রিয় বাউন্ডুলে সিরিজের রম্য-বিদ্রুপের নতুন বই ‘বাউন্ডুলে-১৩’ প্রকাশ করেছে পার্ল পাবলিকেশন্স। তাছড়া চারটি উপন্যাস নিয়ে সমগ্র ‘চার প্রেমময়ী’ এবং বাউন্ডুলে সিরিজের চারটি বই নিয়ে সমগ্র ‘চার বাউন্ডুলে’ যথাক্রমে প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন ও পার্ল পাবলিকেশন্স।  

এবারের মেলা প্রসঙ্গে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, আসলে প্রত্যেকটা জিনিস প্রথম যখন শুরু হয় তখন একটু সমস্যা হয়। সমস্যাটা এবারের বইমেলার ক্ষেত্রেও হচ্ছে। কারণ, এই বছরেই প্রথমবারের মত বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। সুতরাং, মানুষে এই বিষয়টির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে। যেমন, এবারের সমস্যা হচ্ছে পাঠক প্রথমেই ঢুকে যদি শাহবাগ থেকে ঢোকে তাহলে ডানদিকে ঢুকছে, আর যদি দোয়েল চত্বর থেকে আসে তাহলে আগে বামদিকে ঢুকছে। অর্থাৎ, তারা পুরানো অভ্যাসমত বাংলা একাডেমিতেই আগে ঢুকছে। কিন্তু ঢুকেই তারা প্রথমে একটু হোঁচট খাচ্ছে। একাডেমি প্রাঙ্গনে অন্যান্য প্রকাশনাগুলো কোথায়? বিশেষ করে নামী প্রকাশকগুলো কোথায়? তখন তারা বুঝতে পারছে যে মেলাটা ওইদিকে চলে গেছে। সোহরাওয়ার্দীতে চলে গেছে। এই বিষয়টার সঙ্গে মানুষ অভ্যস্থ হয়ে গেলে আশা করা যায় আর কোন সমস্যা হবে না। প্রথম চারদিনে আমি এমনটাই দেখেছি। কিন্তু তারপর থেকে আবার খেয়াল করলাম, লোকজন ঠিকই আবার সোহরাওয়ার্দীতে ঢুকেছে। তো এইটা হচ্ছে চারদিনের অভ্যাসের একটা ব্যাপার। সবমিলিয়ে এই ব্যাপারটা মনে হয় অনেকটাই কেটে গেছে। আর একটা ব্যাপার, মেলাটা দু’ভাগ হওয়ার ফলে কোন প্রভাব পরেছে কিনা। আমার মনে হয় কোন প্রভাবই পরেনি। কারণ, এপাশ থেকে ওপাশের দুরত্ব দু’শো হাত মাত্র। সেক্ষেত্রে, মানুষ যদি একদিকে ঢোকে আর জানতে পারে অপর পাশে আর একটা মেলা চলছে। তখন সে অনায়াসেই অন্যপাশে যেতে পারছে। অতএব এটাতে কোন সমস্যাই হচ্ছে না। আর, এভাবে মেলা হওয়ার একটা সুবিধা হচ্ছে যে, যেহেতু মেলাটা প্রথমবারের মত এখানে হচ্ছে তাই আশা করা যায় পরবর্তীতে এই পরিসরটা আরও বাড়বে। এবং এই জায়গাটায় কেমন জানি একটা শান্ত-ঠান্ডা ভাব আছে বলে মনে হচ্ছে। এবং একটু প্রকৃতি ঘেরা।

সবমিলিয়ে ভালোই লাগছে। সবচেয়ে বড় কথা, স্টলগুলোকে এত চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে, একদিক দিয়ে পাঠক ঢুকলে যেকোন রাস্তা দিয়েই বের হোক না কেন প্রতিটা স্টল তার দেখা হয়ে যাবে। এটা বাংলা একাডেমিতে কোনভাবেই সম্ভব ছিলো না।   

স্ত্রী ফারজানা ঊর্মি আর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সুমর্মীকে নিয়েই তার সুখের সংসার। জীবনের চতুর্থ দশক স্পর্শ করা এই লেখকের দাবী তিনি সদাই তরুন থাকবেন। সত্তর বছর বয়সেও তিনি প্রেম করতে চান। জানালেন প্রেম তিনি প্রতিনিয়তই করছেন। কখনো তার বাসার বারান্দায় বসা চড়ুইটির সঙ্গে। কখনো বা এক্যুরিয়ামে থাকা মাছের সঙ্গে। তার প্রেম সব সময়েই চলমান। সদা হাস্যজ্জ্বল মানুষটি হেসেই জানালেন তার ভেতরে অনেক প্রেম, আর তিনি মানুষকে খুব ভালোবাসতে পারেন।

জানালেন তার বাসায় এখন একটা লাইব্রেরি আছে সাড়ে তিন হাজার বইয়ের সংগ্রহ। তার স্বপ্ন সেখানে আর সারা দেশেই এমন লাইব্রেরি করার। ইতোমধ্যেই এই স্বপ্নের বাস্তবায়নের কাজ শুরু  করেছেন বলেও জানান তিনি। লাইব্রেরিকে ঘিরে এখন অনেক ব্যস্ততা। এ বিষয়ে কিশোর পাঠকদের  জন্য একটি চমক নিয়ে আসছেন তিনি। যার জন্য পাঠকদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত।

 

 

রাইজিংবিডি / ফাতমা খান / রাশেদ শাওন

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC