ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ জুন ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ওয়ার্নার-কামিন্সে পাকিস্তানকে হারাল অস্ট্রেলিয়া

আবু হোসেন পরাগ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৬-১২ ১১:২০:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৬-১৩ ১০:৪৩:৩৭ এএম
Walton AC 10% Discount

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রায় দেড় শ রানের উদ্বোধনী জুটির পর ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরিতে বিশাল সংগ্রহের পথেই এগোচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে মোহাম্মদ আমিরের দারুণ বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে লক্ষ্যটা নাগালে পেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু মূল ব্যাটসম্যানরা ঠিক জ্বলে উঠতে পারেননি। টেল-এন্ডার অবশ্য লড়াই করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে অস্ট্রেলিয়াই। পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে অ্যারন ফিঞ্চের দল।

টনটনে বুধবার ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও এক ওভার বাকি থাকতে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ৩০৭ রানে। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক ওয়ার্নার করেন ১০৭ রান। আমির নেন পাঁচ উইকেট। জবাবে ৪৫.৪ ওভারে পাকিস্তান থামে ২৬৬ রানে। বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন প্যাট কামিন্স।

চার ম্যাচে তিন জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। সমান ম্যাচে এক জয়, দুই হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে আটে আছে পাকিস্তান। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে সরফরাজ আহমেদের দল।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ ২২ ওভারে বিনা উইকেটে তুলেছিলেন ১৪৬ রান। পরের ওভারের প্রথম বলে ফিঞ্চকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আমির। ১৯৭৫ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার সেরা উদ্বোধনী জুটি এটি।

ফিঞ্চ ৮৪ বলে ৮২ করে ফিরলেও ওয়ার্নার সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেননি। ভারতের বিপক্ষে হেরে যাওয়া আগের ম্যাচে ওয়ার্নার ফিফটি করতে খেলেছিলেন ৭৭ বল। এ নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। এদিন তিনি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৫১ বলে। ১০২ বলে ছুঁয়েছেন তিন অঙ্ক।

ওয়ানডেতে এটি ওয়ার্নারের ১৫তম সেঞ্চুরি, বিশ্বকাপে দ্বিতীয় আর পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয়। সেঞ্চুরির পর একবার জীবন পেলেও ইনিংসটা আর বেশিদূর নিতে পারেননি তিনি। শাহিন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ দেন ডিপ পয়েন্টে। ১১১ বলে ১১ চার ও এক ছক্কায় করেন ১০৭ রান।



ওয়ার্নারের আগেই ফেরেন স্টিভেন স্মিথ ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ইনিংস বড় করতে পারেননি দুজনের কেউই। পরে পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি শন মার্শ, উসমান খাজা, অ্যালেক্স ক্যারিরাও। ৩২ ওভারে ২ উইকেটে দুই শ পেরোনো অস্ট্রেলিয়া তাই সাড়ে তিন শও করতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়া ১০ উইকেট হারায় ২৮ ওভার আর ১৬১ রানের মধ্যে! ১৯ রানে পড়ে শেষ ৫ উইকেট। দুই ওপেনারের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন মার্শ।

চার বলের মধ্যে শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেওয়া আমির ১০ ওভারে মাত্র ৩০ রানে নেন ৫ উইকেট। আফ্রিদি ২ উইকেট পেলেও ১০ ওভারে খরচ করেন ৭০ রান। ওয়াহাব রিয়াজ, হাসান আলী ও মোহাম্মদ হাফিজ নেন একটি করে উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারেই কামিন্সের বলে থার্ডম্যানে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন ফখর জামান। দ্বিতীয় উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা চালান ইমাম-উল-হক ও বাবর আজম।

বাবর দারুণ কিছু চার মেরে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু নাথান কোল্টার-নাইলের শর্ট বল পুল করে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে তিনি ক্যাচ দেন ব্যক্তিগত ৩০ রানে।

পাকিস্তানের ইনিংসের সেরা সময়টা আসে ইমাম ও মোহাম্মদ হাফিজের তৃতীয় উইকেট জুটিতে। পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে দলকে দারুণভাবে এগিয়ে নিচ্ছিলেন এই দুজন।

২৫ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১৩৬। ৮ উইকেট হাতে নিয়ে বাকি ২৫ ওভারে দরকার ছিল ১৭২ রান। কিন্তু এরপর ছোটখাটো একটা ধসই নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। ১৫ বলের মধ্যে তারা হারায় ৩ উইকেট!

৮০ রানের জুটি ভেঙে কামিন্স নিজের পরপর দুই ওভারে ফেরান ইমাম (৫৩) ও শোয়েব মালিককে। মাঝের ওভারে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে হাফিজকে (৪৬) ফেরান ফিঞ্চ।

এরপর আসিফ আলীও বেশিক্ষণ টেকেননি। তখন ১৬০ রানেই নেই ৬ উইকেট। হাসান আলীর ৩টি করে চার ও ছক্কায় ১৫ বলে ৩২ রানে পাকিস্তান স্পর্শ করে দুই শ।

ওয়াহাবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অবশ্য আশা জেগেছিল পাকিস্তান শিবিরে। অধিনায়ক সরফরাজের সঙ্গে ওয়াহাব গড়ে ফেলেছিলেন ৬৪ রানের জুটি। শেষ ৬ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৪৫ রান। তবে ৪৫তম ওভারে স্টার্ক চার বলের মধ্যে দুই উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেন।

প্রথমে ওয়াহাবকে (৩৯ বলে ৪৫) ফিরিয়ে ভাঙেন জুটি। ভাগ্য ভালো যে অস্ট্রেলিয়া উইকেটটা পেয়েছে রিভিউ নিয়ে। কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। ফিঞ্চ রিভিউ নিলে পাল্টে সিদ্ধান্ত। এরপর আমির ফেরেন ফুলটসে। পরের ওভারে সরফরাজকে রান আউট করে দলের জয় নিশ্চিত করেন ম্যাক্সওয়েল।

১০ ওভারে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন কামিন্স। স্টার্ক ৪৩ ও কেন রিচার্ডসন ৬২ রানে নেন ২টি করে উইকেট।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১২ জুন ২০১৯/পরাগ

Walton AC
     
Walton AC
Marcel Fridge