ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:
পোপের বক্তব্য

বিশ্ব জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখবে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১২-০৫ ৮:২৮:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১২-০৬ ৩:২২:৩২ পিএম

তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সব মানুষের মধ্যে শান্তি ও সংহতির বাণী প্রচার করে থাকেন তিনি। পোপ দ্বিতীয় জন পলের তিন দশক পরে বাংলাদেশে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কোনো প্রধান ধর্মগুরুর এটিই প্রথম সফর। পোপের এই সফর ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে তিন মাসে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এমন একটি সংকটের সময়ে পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশ সফর করেছেন।

সফরের প্রথম দিন তিনি বঙ্গভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বলেন, ‘কঠিন এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। শুধু রাজনৈতিক বিষয়ের সমাধানই নয়, বাংলাদেশে দ্রুত মানবিক সহায়তাও দিতে হবে।’ বিশ্ববাসীকে এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টিতে তাঁর এই বক্তব্য প্রভাব রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে পোপের বাংলাদেশ সফর ঘিরে বিশ্ব সম্প্রদায়েরও দৃষ্টি ছিল। পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে আসার আগে মিয়ানমার সফর করেন। সেখানে নিপীড়নের সমালোচনা করলেও রোহিঙ্গাদের নাম উচ্চারণ না করায় সমালোচনা হচ্ছিল তাঁর। কিন্তু ঢাকায় সফরের দ্বিতীয় দিন তিনি রোহিঙ্গা পরিবারের ১৬ সদস্যের কাছ থেকে তাদের দুর্দশার কথা শুনে আর নিজেকে সংযত রাখতে পারেননি। আবেগময় হয়ে তিনি উচ্চারণ করেন ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি এবং সবার পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন।

‘পোপ ফ্রান্সিসের বক্তৃতায় বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রশংসা ঝরেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের প্রশংসা করেন পোপ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ হলো আন্ত ধর্ম ও ঐকতানের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কথা উল্লেখ করে পোপ বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন এবং এই আদর্শ সংবিধানে যুক্ত করার কথা বলেছিলেন। তিনি আধুনিক, বহুত্ববাদী এবং অংশগ্রহণমূলক একটি সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে প্রতিটি মানুষ ও জাতি মুক্তভাবে শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করতে পারবে। যেখানে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সমান অধিকার থাকবে। ’

রোহিঙ্গারা প্রাণভয়ে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কারণে যে অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশ যে বিরাট সমস্যায় পড়েছে, সে বিষয়টি তিনি উপলদ্ধি করেছেন। ঢাকা সফরকালে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি টের পেয়েছেন। বস্তুত: পোপ বোঝাতে চেয়েছেন যে, সৃষ্টির সেরা হিসেবে মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের শান্তিতে বসবাসের অধিকার রয়েছে। এখন পোপের এই মূল্যবান বার্তা বিশ্বসম্প্রদায়কে পৌঁছে দিতে হবে। আমরা মনে করি, শান্তির দূত পোপের বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।




রাইজিংবিডি/ঢাকা/৫ ডিসেম্বর ২০১৭/আলী নওশের/শাহনেওয়াজ

Walton
 
   
Marcel