ঢাকা, সোমবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ২০ নভেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সু চির মন্ত্রী তিন্ত সোয়ে

আলী নওশের : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-০২ ১২:০৪:২৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-১০-০২ ১:৫১:৪৬ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনা শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী কিও তিন্ত সোয়ে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে আরো আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক।

এর আগে আলোচনার জন্য রোববার রাতে মিয়ানমার থেকে ঢাকা আসেন তিন্ত সোয়ে। বৈঠক শেষে আজ রাতেই ফিরে যাবেন তিনি।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। সেখানে উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য একজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে, তারই ধারাবাহিকতায় এ বৈঠকে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থং তুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে আলোচনা করেন। ওই আলোচনায়ও বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জোর দিয়ে বলেছে।
 


এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে উন্মুক্ত আলোচনার পর রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরো বেড়েছে। রাখাইনে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ, সেখানে জরুরি ত্রাণকর্মীদের অবারিতভাবে যেতে দেওয়া এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় সবাই জোর দিয়েই বলেছেন। এর ফলে তিন্ত সোয়ের সঙ্গে আলোচনায় রোহিঙ্গাদের ফেরানোর ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে এ অভিযোগ করে পরদিন থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু করে। রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতন ও তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিজেদের বাঁচাতে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছে, বিদ্রোহীদের দমনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণ করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ বলছে, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের 'জাতিগতভাবে নির্মূল' করছে মিয়ানমার।

জাতিসংঘ রাখাইনের ওই সেনা অভিযানকে চিহ্নিত করেছে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযান হিসেবে। গত কয়েক দশক ধরে আরো প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশ বলে আসছে, মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়া হলেও মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে নিতে হবে।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২ অক্টোবর ২০১৭/এনএ/সাইফুল

Walton
 
   
Marcel