ঢাকা, রবিবার, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘করোনা সচেতনতার নামে নির্মমতা’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-১০ ৩:১৫:৫৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১০ ৫:৪৯:৩৪ এএম

‘করোনা সচেনতার নামে নির্মমতা’ চালানো টাঙ্গাইল পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুর রহমান আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সারা দেশে অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে ঘরের বাইরে আসা মানুষদের পেটান টাঙ্গাইল পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিনুর রহমান আমিন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কাউন্সিলর নিজে মাস্ক বা গ্লাভস পরেননি। তিনি কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা না করে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে উপস্থিত মানুষকে পেটাচ্ছেন। তার থেকে রক্ষা পায়নি বাজার করতে আসা বৃদ্ধও। ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকেও তিনি পেটান।

পাশাপাশি রাস্তায় থাকা মানুষদের গালি দিতেও দেখা গেছে তাকে।

ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা হয়। ইয়াসিন আরাফাত নামের এক ফেসবুক উইজার ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘টাঙ্গাইলে করোনা সচেতনতার নামে নির্মমতা। স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্ব সচেতন করা, আঘাত করা নয়। তিনি যেই হোন বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’’

সাংবাদিক নওশাদ রানা সানভি নামের আইডি থেকে দুটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। সেখানেও কাউন্সিলরকে শাস্তির দাবি জানিয়ে অনেকে কমেন্ট করেছেন।

এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হলো।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জে আর খান রবিন ই-মেইলের মাধ্যমে পুলিশের মহাপরিদর্শক, টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি এবং পৌরসভার মেয়রকে এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা হওয়ার পর বুধবার ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন আমিনুর রহমান আমিন। তিনি এমন কাজের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি বলেছেন- 
‘‘প্রিয় টাঙ্গাইলবাসী আসসালামালাইকুম। বর্তমান সময়ে করোনা একটি আতঙ্কিত নাম। মানুষকে করোনা থেকে রক্ষা করতে ঘরে ফেরাতে গিয়ে অতিরিক্ত আবেগের বশে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। এ জন্য আমি লজ্জিত, দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।’’

এ বিষয়ে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে কথা হয় টাঙ্গাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। তারা চেষ্টা করবেন ভবিষ্যতে যেন এমন আর না ঘটে।

জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত করছেন। তারপরও কেউ অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ঢাকা/মাকসুদ/বকুল/নাসিম