মরদেহ নিতে আসেনি পরিবারের লোকজন, মুখাগ্নি করলেন ইউএনও
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের নারায়নখানা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন নিত্যানন্দ বল্লব (৬৭)। করোনায় আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাতে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়েও মরদেহ নিতে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও মানবিকতার টানে এগিয়ে যান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান খান।
রোববার (২৮ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় ডোমের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় পৌর শ্মশানে নিত্যানন্দ বল্লবের (৬৭) মুখাগ্নি করেন ইউএনও। পরে তার সৎকার করেন তিনি। এ সময় ডা. এস এম সাকিবুর রহমান ও ডা. জাহিদ উপস্থিত ছিলেন।
গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. অসিত মল্লিক জানান, গত ৬ জুন করোনায় আক্রান্ত নিত্যানন্দ বল্লবকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। কিন্তু পরিবারের লোকজনের অনীহার কারণে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়নি। শনিবার রাতে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়া হলেও কেউ হাসপাতালে আসেননি। সারা রাত হাসপাতালের বারান্দায় তার মরদেহ পড়ে থাকে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান খান বলেন, ‘রাতেই নিত্যানন্দের সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু শ্মশান কর্তৃপক্ষের বাধা ও মরদেহ নেওয়ার জন্য ভ্যানের ব্যবস্থা করতে না পারায় সকালে সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সকালে পরিবারের সদস্যরা কেউ মরহেদ সৎকারের জন্য আসেননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন ডোমের সহযোগিতায় লাশের সৎকার করা হয়। আমি তার মুখাগ্নি করি।’
তিনি জানান, করোনায় মৃতের মরদেহ কবরস্থান বা শ্মশানে নিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই এসব মৃতদেহ বহনের জন্য ভ্যানের ব্যবস্থা থাকা উচিত।
গোপালগঞ্জে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হলো।
গোপালগঞ্জ/বাদল/রফিক
রাইজিংবিডি.কম