ঢাকা     শুক্রবার   ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়ার গল্প

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:২৫, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়ার গল্প

১৯৯০ সালের ১০ জানুয়ারি তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন ঐশ্বরিয়া রাজেশ। বাবা-মা এবং তিন ভাইয়ের সঙ্গে সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। শৈশবেই দুই ভাইকে হারান এই অভিনেত্রী। বাবাকেও হারান খুব কম বয়সে। তার বাবা রাজেশ ছিলেন তেলেগু সিনেমার অভিনেতা। পাশাপাশি প্রযোজকও ছিলেন।  

জানা যায়, ঐশ্বরিয়ার বাবা রাজেশ একসময় অতিরিক্ত মদ্যপান করতে শুরু করেন। ফলে টাকাপয়সার হিসাব রাখতেন না। সব টাকাই দান করে দিয়েছিলেন। অভিনেতা রাজেশ মারা যাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে অভাবের সংসারে দিন কাটে ঐশ্বরিয়ার।

আরো পড়ুন:

 

চেন্নাইয়ের স্কুল-কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন ঐশ্বরিয়া। বাণিজ্যে স্নাতক হওয়ার পর তার ক্যারিয়ার অন্য খাতে প্রবাহিত হয়। কলেজে পড়াকালীন একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে নাচ শিখতে হয়েছিলে ঐশ্বরিয়াকে। এ সময়ে নাচের একটি রিয়েলিটি শোয়ে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন ঐশ্বরিয়া। এরপর একটি টিভি রিয়েলিটি শো সঞ্চালনার প্রস্তাব পান তিনি। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি ঐশ্বরিয়াকে। একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করতে শুরু করেন।

 

১৯৯৫ সালে তেলুগু ভাষার ‘রামবান্তু’ সিনেমায় শিশু শিল্পী প্রথম অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া রাজেশ। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে পাকাপাকিভাবে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন। এ বছরে তামিল ভাষার ‘নীথানা আভান’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ঐশ্বরিয়ার। তামিল-তেলুগু ভাষার পাশাপাশি মালায়ালাম, কন্নড় ও হিন্দি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। 

 

দক্ষিণী সিনেমার অনেক তারকার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে ঐশ্বরিয়ার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিয়ের সাজের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, “আমারও জানতে ইচ্ছা করে যে, আমি কার সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছি। কোনো সিনেমায় বিয়ের দৃশ্যে অভিনয় করলে সেই ছবিই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আমি এখনো সিঙ্গেল।” কলেজে পড়ার সময়ে এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। তা-ও পাঁচ থেকে ছয় বছর এ সম্পর্কে ছিলেন তিনি। কিন্তু অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুর পরই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। নায়িকার দাবি—“ক্রমাগত মতের অমিল হওয়ার কারণে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসি।”

 

একসময় প্রেমের সম্পর্ককে খুব ভয় পেতেন ঐশ্বরিয়া। অতীতে এমন এক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন যে, তার জীবন তিক্ত অভিজ্ঞতায় ভরিয়ে দিয়েছিল। তাই বর্তমানে ক্যারিয়ার নিয়েই মনোযোগী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ অভিনেত্রীর ভাষায়—“আমি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে, এখন প্রেম করার মতো কোনো সময় নেই।” তবে পেশাগত জীবনে খুব খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। সম্প্রতি এক পডকাস্টে সেই কথা জানিয়েছেন তিনি। এ অভিনেত্রী বলেন, “ফটোশুট করার জন্য এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখন বয়স কম ছিল। রঙিন দুনিয়ার পেছনেও যে অন্ধকার থাকে, সে বিষয়ে অবগত ছিলাম না।”

 

আলোকচিত্রী ঐশ্বরিয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “আমি ঘরে ঢুকে ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে আমার হাতে স্বল্পদৈর্ঘ্য পোশাক ধরিয়ে দেন আলোকচিত্রী। তিনি বার বার আমায় পোশাক বদলে ফেলার জন্য জোর করতে থাকেন। আমি আপত্তি জানালে তিনি বলেন, পোশাকটি পরে ফেলুন। আমি আপনার শরীর দেখতে চাই। আজকাল সবাই এ রকম করে।” আলোকচিত্রীর কথা শুনে থতমত খেয়ে যান ঐশ্বরিয়া। তার ভাষায়—“আমি তো তখন অনভিজ্ঞ ছিলাম। আরো খানিকক্ষণ আলোকচিত্রীর সঙ্গে কথোপকথন চললে হয়তো আমাকে রাজি করিয়ে ফেলতেন। কিন্তু আমার মন সায় দিচ্ছিল না। হঠাৎ কী মনে হল, আমি ছলনার আশ্রয় নিলাম।”

 

ফটোশুটের দিন ঐশ্বরিয়া তাই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফটোগ্রাফার তার ভাইকে রুমের বাইরে বসিয়ে রেখেছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ফটোগ্রাফারকে এ অভিনেত্রী জানান, এ ধরনের পোশাক পরার আগে আমার ভাইয়ের অনুমতি নিতে হবে। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও জানান ঐশ্বরিয়া। রুপালি জগতের কালো অধ্যায় নিয়ে আহত ঐশ্বরিয়া। এ অভিনেত্রী বলেন, “তখন না হয় আমার উপস্থিত বুদ্ধি কাজ করেছিল। কিন্তু যারা আমার মতো অনভিজ্ঞ, তারা তো সেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিজেকে সবসময় না-ও বাঁচাতে পারেন। এগুলো ভেবেই খারাপ লাগে।”

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়