জলবায়ু মোকাবিলায় তারেক রহমানের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেন বিদিশা
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বিদিশা এরশাদ।
বাংলাদেশের পরিবেশগত ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ রোপণের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিদিশা এরশাদ।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তারেক রহমানের উদ্যোগকে দূরদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে বিদিশা এরশাদ লেখেন-
প্রিয় তারেক রহমান সাহেব,
আসসালামু আলাইকুম।
বাংলাদেশের পরিবেশগত ভবিষ্যতের জন্য আপনার পরিকল্পনা, বিশেষ করে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ রোপণের প্রতিশ্রুতি আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। দেশের পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আপনার এই উদ্যোগ অত্যন্ত দূরদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ।
সরল হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ রোপণ করতে হলে প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি এবং দৈনিক প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার গাছ রোপণ করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রায় ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং দেশের নদী নেটওয়ার্ক প্রায় ৫৭ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ। এই প্রেক্ষাপটে দেশের উপকূলীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো সুরক্ষায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সব রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে গাছ রোপণ ও পরিবেশ সুরক্ষাবিষয়ক নীতি আমার ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে প্রিয়।
আমি দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি অনুসরণ করছি আমার ব্রিটিশ বড় কন্যার কাজের মাধ্যমে। তিনি গত ১২ বছর ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি এনজিওর সঙ্গে যুক্ত থেকে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় কাজ, বক্তৃতা প্রদান, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং তহবিল সংগ্রহের কাজ করছেন।
একজন মা হিসেবে আমি তার এই নিরলস পরিশ্রম প্রত্যক্ষ করেছি। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো এই বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। তাই আপনার এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।
এই প্রকল্পকে সফল ও দীর্ঘমেয়াদি করতে কয়েকটি বিষয়ে জানতে ও শেয়ার করতে পারলে ভালো হতো—
সঠিক স্থানে সঠিক প্রজাতির গাছ রোপণ নিশ্চিত করার জন্য কী পরিকল্পনা নেওয়া হবে—বিশেষ করে উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা, নগর এবং গ্রামীণ অঞ্চলের জন্য? নার্সারি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত চারা উৎপাদনের জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? দেশের বিদ্যমান জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমন্বয়ের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি? শুধু গাছ রোপণ নয়, সেগুলোর টিকে থাকা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
আপনার এই উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের একটি সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। আমি আন্তরিকভাবে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং প্রকল্পকে আরো কার্যকর করতে সম্মানজনকভাবে এই প্রশ্নগুলো উত্থাপন করছি।
শ্রদ্ধা ও শুভকামনা সহ,
বিদিশা এরশাদ
একজন সাধারণ নাগরিক
(এরিক এরশাদের মা)
ঢাকা/আলী/মাসুদ