RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৪ ১৪২৭ ||  ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

একটি ‘মঞ্চে’ বদলে গেছে গ্রাম  

শাহীন রহমান, পাবনা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩১, ৫ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৮, ৫ ডিসেম্বর ২০২০
একটি ‘মঞ্চে’ বদলে গেছে গ্রাম  

স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে অজপাড়া গাঁওয়ের বটতলায় দুই যুগ আগে গড়ে ওঠে একটি মঞ্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবেসে তাকে উৎসর্গ করে এলাকাবাসী চলতি বছর সেই মঞ্চের নাম দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু উন্মুক্ত মঞ্চ’। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মঞ্চটি সাজানো হয়েছে লাল-সবুজের রঙে ‘জাতীয় পতাকার’ আদলে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লি গড়গড়ি দাসপাড়া গ্রামের বটতলায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে গড়ে ওঠে মঞ্চটি। এখন এই মঞ্চ ঘিরে বদলে গেছে পিছিয়েপড়া গ্রামটির সামাজিক-অর্থনৈতিক চিত্র।

ঈশ্বরদী শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মঞ্চ দেখতে আশপাশের মানুষ ভিড় করে। গড়গড়ি, রহিমপুর ও দীঘা- গ্রামের মিলনস্থল গড়গড়ি দাসপাড়া মোড়ে শতবর্ষী বটতলার নিচে ‘বঙ্গবন্ধু উন্মুক্ত মঞ্চ’ ঘিরে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন এই মঞ্চের সামনে গ্রামের উৎপাদিত সবজির পাইকারি বাজার বসে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে আম, কাঁঠাল, লিচু পাইকারি বিক্রি হয়। প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ টাকার সবজি, ফলমূল বেচা-কেনা হয়। সারা বছর মঞ্চে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বিশ্বাস বলেন, শতবর্ষী বটগাছের ছায়ায় ক্লান্ত দুপুরে পথচারী ও মাঠে কাজ করা মানুষ বিশ্রাম নিতো। ওই বটগাছের ছায়ার কারণে মানুষ এখানে আসতো। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর স্থানীয় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে হাবিবুর রহমান মৃধা, আফজাল হোসেন মৃধা, আক্তারুজ্জামান মিঠুসহ এলাকার মানুষের ঐকান্তিক চেষ্টায় নির্মাণ করা হয় এই মঞ্চ। স্থানীয়রা প্রথমে ছাউনি দিয়ে বসার জায়গা তৈরি করে। পরে আস্তে আস্তে গড়ে ওঠে স্থায়ী মঞ্চ।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, প্রথমে নিজেদের অর্থে ও স্বেচ্ছাশ্রমে মঞ্চ তৈরি শুরু হয়। পরে তৎকালীন ভূমি মন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ কিছু টাকা অনুদান দেন। ইউপি চেয়ারম্যান মতলেবুর রহমান মিনহাজও এটির সংস্কার কাজে সহযোগিতা করেন।

গ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আমিরুল ইসলাম সরদার বলেন, এই মঞ্চ নির্মাণ হওয়ায় নিভৃত পল্লির মানুষ সারা বছর নানা অনুষ্ঠান করে এখানে। জাতীয় দিবসকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান বিজয় দিবস, অমর একুশে, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখ, রাজনৈতিক দলের জনসভা, পথসভা কিংবা গ্রামের মানুষের বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মঞ্চটি হয়ে উঠেছে মানুষের ভালোবাসা ও মিলনমেলার কেন্দ্রস্থল। মঞ্চ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হাবিবুর রহমান মৃধার মৃত্যুর পর তার স্মরণসভা হয় এই মঞ্চে।

স্থানীয় কলেজ ছাত্র ও ব্যবসায়ী দুর্জয় ইসলাম লিমন বলেন, গ্রামের মধ্যে মঞ্চ স্থাপন হওয়ায় এলাকার চিত্র বদলে গেছে। মঞ্চের কারণে এই গ্রামে এখন নানা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হয়, যা বেশ কয়েক বছর আগে হতো না।

সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতলেবুর রহমান মিনহাজ বলেন, এই মঞ্চের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তচেতনার সঞ্চার হচ্ছে।

ঢাকা/বকুল 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়