Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৯ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ৬ ১৪২৮ ||  ০৬ রমজান ১৪৪২

ভিক্ষা পেলে খান, না পেলে উপোস 

মামুন চৌধুরী || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২৪, ৯ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৪:০১, ৯ ডিসেম্বর ২০২০

রেনু বেগম। বয়স ৯০ ছুঁই ছুঁই। নেই ঘরবাড়ি। বয়সের ভারে আর চলতে পারেন না তিনি। উপায় নেই। শরীর না চললে পেটও চলবে না। যেদিন ভিক্ষা করতে পারেন সেদিন দু’মুঠো ভাত খেতে পারেন, না পারলে থাকতে হয় উপোস।

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনে কাঠের তৈরি ক্র্যাচ দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে ভিক্ষা করেন রেনু বেগম। নেই তেমন শীতবস্ত্র। আছে শুধু ভিক্ষার ঝুলি।

রাইজিংবিডিকে রেনু বেগম বলেন, ‘স্বামী মারা গেছে স্বাধীনতার পর। এক সন্তান নিয়ে বহু কষ্টে দিন পার করছিলাম। ছেলে বড় হয়ে বিয়ে করে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার জয়পাশায় থাকে। সেও অসুস্থ। আমাকে দেখার সামর্থ্য নেই। কোনো উপায় না থাকায় এই বয়সে আমি ভিক্ষা করছি। এক দিন ভিক্ষা করলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পাই। এই দিয়ে চলে। রাতে জংশনের প্লাটফর্মেই থাকি। ভিক্ষা করতে না পারলে খাবারও জোটে না।’

স্থায়ী বসতি না থাকায় তিনি বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা পান না। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সরকারের কাছে বাসস্থান ও আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জংশনের লেবার সরদার হুমায়ূন মিয়া বলেন, ‘এ শীতে রেনু বেগম ভিক্ষা করে খান। রাতে স্টেশনেই থাকেন। কেউ যদি তার পাশে দাঁড়াতো, তাহলে এই বয়সে আর তাকে ভিক্ষা করতে হতো না।’

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুর রকিব বলেন, ‘এ অসহায় নারীকে বৃদ্ধা বয়সে ভিক্ষা করে খেতে হচ্ছে। সত্যি দুঃখজনক। তার জন্য কষ্ট হচ্ছে।’ বিত্তবানদের তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। 

হবিগঞ্জ/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়