Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৪ ১৪২৮ ||  ০৯ সফর ১৪৪৩

একটি দুর্ঘটনা, মজিদের সারাজীবনের কান্না 

মোসলেম উদ্দিন, দিনাজপুর    || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ৩ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ২২:২৬, ৪ আগস্ট ২০২১

আব্দুল মজিদ (৩৫)। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার সাতকুড়ি (বড়চড়া) গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ৮ বছর আগে ট্রেনে কাটা পড়ে এক হাত ও এক পা হারিয়েছেন। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে এখন তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

মজিদ জয়পুরহাটের পুরানাপৈল এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হাত ও পা হারান। তবে বেঁচে যায় তার জীবন। দীর্ঘদিন রংপুর, দিনাজপুরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন। এতে বাবা ছয়মুদ্দিন, মা আর নিজের জমানো সব সম্পদ শেষ হয়ে যায়। 

আব্দুল মজিদ একজন সুদর্শন শারীরিক গঠনের অধিকারী ছিলেন। সুঠাম দেহের মানুষ সংসার চালানোর জন্য সব ধরনের কঠিন কাজ করতেন। তার দুই ছেলে-মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে চারজনের সংসার।  হাত-পা হারিয়ে তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না, সংসারের চাহিদা মেটাতে এখন তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। পারছেন না সন্তানদের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করতে। জীবনযুদ্ধে আব্দুল মজিদ একজন পরাজিত সৈনিক। 

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে দেওয়া হয়েছে একটা পঙ্গু ভাতার কার্ড। তাতে তার সংসার চলে না। স্ত্রী সন্তানদের চাহিদা মেটাতে একটা ব্যবসা করবেন, মূলধনও নেই। একটা চার্জার ভ্যান, রিকশা কিংবা অটোবাইক কিনবেন তারও কোনো উপায় নেই। অন্য কোনো ভারী ওজনের কাজ করার ক্ষমতা তার নেই। একটি পা আর দুটি স্কেসের উপর ভর করে চলতে হয় তাকে।

সাতকুড়ি রেলগেটের আব্দুল রহিম রাইজিংবিডিকে বলেন, ছেলেটি আগে খুব ভালো ছিল, ট্রেনে পড়ে পা হারিয়ে আজ বড় অভাবী হয়ে গেছে। একসময় তার সংসারে কোনো অভাব ছিল না। এখন তো আর কোনো কাজ করতে পারেন না। 

আব্দুল মজিদের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, আমার স্বামী অনেক ভালো মানুষ। একসময় সে কঠোর পরিশ্রম করতো, সংসারে কোনো অভাব ছিল না। একটি ট্রেন আমার সংসারের সব সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছে। আজ সে কিছু করতে পারে না। ট্রেন দুর্ঘটনার পর ছেলে-মেয়ে আর তাকে নিয়ে বাবার বাড়ি হিলির ডাঙ্গাপাড়ায় চলে আসি। বাবার বাড়িতে থেকে তাদের সহোযোগিতায় কোনো রকম চলছি।

আব্দুল মজিদ বলেন, আজ আমি একজন অসহায় পঙ্গু মানুষ। পা হারিয়ে জীবনের সব হারিয়ে ফেলেছি। সংসারের চাহিদা মেটাতে পারি না। ছেলে-মেয়ে আর স্ত্রীর মুখের দিকে তাকাতে খুব কষ্ট হয়। আগে আমি রিকশা চালাতাম, এখন তো এক পা নেই, কীভাবে রিকশা চালাবো। নিজেকে সমাজ-সংসারের বোঝা মনে হচ্ছে। 

হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ১নং খট্রা-মাধবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নের বড়চড়া গ্রামের মজিদকে চিনি। সে অনেক ভালো একটি ছেলে। একসময় সে সুস্থ ছিল, ট্রেন দুর্ঘটনায় তার একটি পা হারিয়ে ফেলে। আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে একটা পঙ্গু ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও তাকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

/মাহি/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়