Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১ ||  কার্তিক ২ ১৪২৮ ||  ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

একসঙ্গে চার সন্তানের মা হলেন লাক্সমিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক,যশোর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১   আপডেট: ২২:৫১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
একসঙ্গে চার সন্তানের মা হলেন লাক্সমিয়া

৮ বছর নিঃসন্তান থাকার পর একসঙ্গে চার সন্তানের মা হয়েছেন লাক্সমিয়া খাতুন (৩০) নামের এক নারী। বর্তমানে ওই চার নবজাতক ও তাদের মা লাক্সমিয়া পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যশোর শহরের কুইন্স হসপাতালে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।  

স্বজনেরা জানান, ২০১৪ সালে বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া গ্রামের আব্দুর রহমান গাজীর ছেলে আবুল বাশারের সঙ্গে একই উপজেলার বাসুয়াড়ি ইউনিয়নের চাড়াভিটা গ্রামের ইমামুল খার মেয়ে লাক্সমিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের আট বছর পার হলেও এই দম্পতির কোনো সন্তান হয়নি। এটা নিয়ে উভয় পরিবারে হতাশা বিরাজ করছিলো। সন্তানের প্রত্যাশায় তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। অবশেষে সোমবার সকালে চার সন্তানের জন্ম দেন লাক্সমিয়া।

যশোর মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নার্গিস আক্তার লাক্সমিয়ার অস্ত্রপাচার করেন।

এদিকে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্মের খবর হাসপাতাল ছড়িয়ে পড়লে কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে ওই দম্পতির স্বজন ও উপস্থিত লোকজনের মধ্যে অন্যরকম অনুভূতি লক্ষ্য করা যায়।  আনন্দে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা স্বপ্রণোদিত হয়ে অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বরত সেবিকা, ওই দম্পতি এবং তাদের স্বজনের মিষ্টিমুখ করান।

নবজাতকদের চাচা বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘সন্তান না হওয়ায় ভাই-ভাবীর সংসারে শান্তি ছিলো না।  যশোর-নড়াইল বিভিন্ন জায়গায় কবিরাজি চিকিৎসাও করানো হয়েছে।  তাতেও কোনো সুফল মেলেনি। আল্লাহ ইচ্ছায় দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো আমাদের বংশের প্রদীপ এলো।  আমাদের পরিবার ও ভাবীর পরিবারে এখন খুশি বিরাজ করছে।’

সন্তান না হওয়ার যন্ত্রণায় দীর্ঘদিন কাটিয়েছেন নওয়াপাড়া বন্দর এলাকার জাহাজ শ্রমিক আবুল বাশার।  আবেগাপ্লুত হয়ে চার নবজাতকের এই জনক বলেন, 'সন্তান না হওয়া যন্ত্রণা যে কতো কষ্টের তা বুঝাতে পারবো না। আজ জীবনের অনেক স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেছে। আপনারা সবাই আমার চার সন্তানের জন্য দোয়া করবেন। ’

যশোর মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নার্গিস আক্তার বলেন, 'এই দম্পতি দেড় বছর আগে আমার কাছে চিকিৎসার জন্য আসেন। এই দম্পত্তির দুইজনেরই কিছু সমস্যা ছিলো।  অনেক সময় একাধিক বাচ্চা হলে ২-১টি মারা যায়।  কিন্তু আল্লাহর রহমতে এই নারীর কোনো সমস্যা হয়নি। সোমবার সিজারের মাধ্যমে তার দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে সন্তান হয়েছে। তারা সবাই ভালো রয়েছে।’

রিটন/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ