ঢাকা     সোমবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৯ ||  ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: অরণ্যর চোখ মাকে খুঁজছে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ১২:৩৫, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: অরণ্যর চোখ মাকে খুঁজছে

বাড়িতে শোকের মাতম। পরিবারের সবাই ভাসছেন শোক সাগরে। তাদের আহাজারি আর দীর্ঘশ্বাসে ভারি হয়ে আছে চারপাশ। কিন্তু এ সবের কোনো কিছুই যেন স্পর্শ করছে না অরণ্যকে। তিন বছরের এই অবুঝ শিশু চারপাশে খুঁজে ফিরছে মায়ের মুখ। অব্যক্ত বেদনায় ভরা চোখের ভাষায় সে যেন বলতে চাইছে- মা কোথায়? কখন ফিরবে মা?

অরণ্যের মা রুপালি রানী (৩০) গত রোববার মহালয়া উপলক্ষ্যে ধর্মসভায় যোগ দিতে বদেশ্বরি মন্দিরে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান। একদিন পর করতোয়া থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। একই ঘটনায় অরণ্যের পরিবারের আরও ৪ জন মারা গেছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন। 

এ ঘটনার পর থেকে অরণ্যর বাড়ি তো বটেই পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার আরাজি শিকারপুর এলাকার মানুষ শোকে ম্রিয়মাণ। সেদিন নৌকায় অরণ্যর পরিবারের ৭ জন ছিলেন। বড় বোন নন্দিনীসহ ৩ জন বেঁচে ফিরলেও মা রুপালিসহ বাকি ৪ জন ফিরে আসেননি। মামার বাড়িতে থাকায় সেদিন মায়ের সঙ্গী হয়নি অরণ্য। 

বুধবার অরণ্যদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মৃতদের শ্রাধ্যের আয়োজন চলছে। শোকের মাতম বাড়িজুড়ে। ডুকরে কাঁদছেন অরণ্যর বাবা বাসুদেব এবং বোন নন্দিনী। তাদের সমবেদনা জানাতে এসে প্রতিবেশীরাও আঁচলে মুছছেন চোখের কোণ। কিছুটা ধাতস্থ হয়ে বাসুদেব চন্দ্র জানান, সেদিন আনন্দ নিয়েই তার স্ত্রী, মেয়ে, বৌদি কবিতা রানী,  ভাতিজি আলো রানী, অর্পিতা রানী, শ্যামলী রানী এবং আলো রানীর মেয়ে জয়া রানী ও জ্যোতি রানী বদেশ্বরী মন্দিরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এদের মধ্যে শেষ দুজন শিশু। কিন্তু নদী পার হতে গিয়ে ম্লান হয়ে যায় সব আনন্দ। জয়া রানীর মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি। 

বাসুদেব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। মহালয়া দিয়ে এই উৎসবের শুরু। কিন্তু উৎসবের প্রথম দিনেই হারিয়ে ফেললাম জীবনের সব আনন্দ।’

স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর ওপারে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল। রোববার দুপুরের দিকে ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় নদী পার হচ্ছিলেন। তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণ ক্ষমতার নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। 

এ দিকে, দুর্ঘটনার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায়কে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, মরদেহ উদ্ধার এবং পরিবারকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদানে সক্রিয় থাকায় তদন্ত প্রতিবেদনের সময় ৩ দিন বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দীপঙ্কর রায়।  

নিহত প্রত্যেক পরিবারকে মরদেহ সৎকারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য নৌকাডুবির ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ৬৮ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ জন।
 

নাঈম/তারা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়