ঢাকা     শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৯

এরই নাম নিলাম, নামমাত্র দামে কিনে চারগুণে বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:২৫, ৩ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ১১:৩০, ৩ অক্টোবর ২০২২
এরই নাম নিলাম, নামমাত্র দামে কিনে চারগুণে বিক্রি

নিলামে বিক্রি করা একটি ভবন

খুলনার রূপসা উপজেলার ১০টি স্কুলের পরিত্যাক্ত ভবন ওপেন নিলামের নামে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। ১০টি স্কুলের পাকা ১০টি ভবন নিলামে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকায়। যা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিনে চারগুণ টাকায় বিক্রি করা হয়। 

এদিকে সরকারি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর আগে উপজেলা পরিষদের বিশাল দুইতলা ভবন চারজন ঠিকাদারের সিন্ডিকেট মাত্র ৩ লাখ টাকায় কিনে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করে। এভাবে সরকারি ভবন নামমাত্র টাকায় ওপেন নিলামে বিক্রি করায় সিন্ডিকেট আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। আর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে।  

উপজেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, রূপসা উপজেলার বিভিন্ন স্থানের ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু সেখানে সংশ্লিষ্টদের পরোক্ষ সহায়তায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নামমাত্র দামে ভবনগুলো কিনে নেন। 

সূত্র জানায়, স্থানীয় একটি পত্রিকায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রব স্বাক্ষরিত প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষে আগ্রহী প্রার্থীদের আসার আহ্বান জানানো হয়। 

অভিযোগ আছে, বিভিন্ন স্থান থেকে নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হলেও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি সিন্ডিকেট করে সেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়নি। বিধি মোতাবেক সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলাম দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। নামমাত্র ধার্যকৃত টাকা থেকে সামান্য কিছু বেশি দিয়ে কৌশলে সিন্ডিকেটকারীরাই কিনে নেন নিলাম। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারি ভবনের ধার্যকৃত ৬৫ হাজার ১৪৪ টাকার নিলাম ৬৬ হাজার ৫০০ টাকায় আব্দুল মজিদ ফকির, উপজেলা সদর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত ৬২ হাজার ৯ টাকার নিলাম ৬৪ হাজার ৫০০ টাকায় আওরঙ্গজেব স্বর্ণ, আনন্দনগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত ৬২ হাজার ৯ টাকার নিলাম ৬৫ হাজার টাকায় তাহিদ হোসেন মোল্লা, পাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত ৫৯ হাজার ৯৫৭ টাকার নিলাম ৬২ হাজার ৫০০ টাকায় মোর্শেদুল আলম বাবু, মায়রাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত ৫৭ হাজার ২৯৬ টাকার নিলাম ৬০ হাজার টাকায় মো. আলী জিন্নাহ, নন্দনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত ৬০ হাজার ৪৮৭ টাকার নিলাম ৬১ হাজার ৫০০ টাকায় সরদার মিজানুর রহমান, সিন্দুকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত ৫৩ হাজার ৫৯৯ টাকার নিলাম ৫৫ হাজার ৫০০ টাকায় মোল্যা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান, বাগমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত ৫১হাজার ১৪৮ টাকার নিলাম ৫৪ হাজার ৫০০ টাকায় আব্দুল হামিদ ভাসানী, অবিনাশচন্দ্র শীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত ৬২ হাজার ৯ টাকার নিলাম ৬৪ হাজার টাকায় আবুল কালাম আজাদ, রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ধার্যকৃত একলাখ ৩৯ হাজার ২১৬ টাকার নিলাম একলাখ ৪৪ হাজার টাকায় এবিএম কামরুজ্জামান কিনে নেন।

জানা গেছে, নিলাম ক্রয়ের দিনই আব্দুল মজিদ ফকির ৬৬ হাজার ৫০০ টাকায় নেওয়া নিলাম স্বল্প বাহিরদিয়ার জিয়ার কাছে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকায়, আওরঙ্গজেব স্বর্ণ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকায় নেওয়া নিলাম ফকিরহাটের আসাবুরের কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়, তাহিদ হোসেন মোল্লা ৬৫ হাজার টাকায় নেওয়া নিলাম খুলনার এক ব্যবসায়ীর কাছে ২ লাখ টাকায়, মোর্শেদুল আলম বাবু ৬২ হাজার ৫০০ টাকায় নেওয়া নিলাম ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়, সরদার মিজানুর রহমান ৬১ হাজার ৫০০ টাকায় নেওয়া নিলাম ফকিরহাটের আসাবুরের কাছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায়, ইউপি চেয়ারম্যান মোল্যা ওহিদুজ্জামান মিজান ৫৫ হাজার ৫০০ টাকায় নেওয়া নিলাম ফকিরহাটের আসাবুরের কাছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায়, আবুল কালাম আজাদ ৬৪ হাজার টাকায় নেওয়া নিলাম ফকিরহাটের আসাবুরের কাছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায়, এবিএম কামরুজ্জামান ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় নেওয়া নিলাম ৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, ‘উপজেলা নিলাম কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলাম দেওয়া হয়।’  

রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া তাছনিম বলেন, ‘উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে নিলাম মূল্য নির্ধারণ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিলো। পরে ওপেনে নিলামের মাধ্যমে দরদাতাদের কাছে ভবনগুলো বিক্রি করা হয়। 

সিন্ডিকেটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা যেমনটা শুনেছেন তেমনটি নয়।’

নুরুজ্জামান/টিপু

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়