শনিবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দেবে রামেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
রাজশাহী সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা শাহরিয়ারের (২৩) মৃত্যুর পর ‘হামলা’ ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছিলেন রাজশাহী মেডিকেলের (রামেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সেই সময় শেষ হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যায়। তবে এ নিয়ে কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তারও করেনি। তাই নতুন কর্মসূচি দিতে যাচ্ছেন রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
আরো পড়ুন: রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সমুদ্র দাস বলেন, ‘শাহরিয়ারের মৃত্যুর পর রাবি শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাই হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় আল্টিমেটামের সময় শেষ হয়েছে। আর তাই আগামীকাল (শনিবার) আমরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবো। সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
এবিষয়ে জানতে রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এর আগে গত বুধবার রাত ৮টার দিকে রাবির হবিবুর রহমান হলের তৃতীয় ব্লকের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম মোস্তফা শাহরিয়ার। তাকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আরো পড়ুন: রাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: রাজশাহী মেডিক্যালে ভাঙচুর
নিহত শাহরিয়ারের গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বেতুড়া গ্রামে।
রামেক হাসপাতালে শাহরিয়ারকে মৃত ঘোষণা করার পর তার চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন রাবির শিক্ষার্থীরা। সে রাতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। রাবি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার প্রতিবাদ করায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের মারধর করেছেন। চিকিৎসায় অবহেলা ও মারধরের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে পর রাত ২টায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফেরেন। তবে এর আগে রাত সাড়ে ১১টা থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। তাদের দাবি, বিক্ষুব্ধ রাবি শিক্ষার্থীরা তাদের মারধর করেছেন। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।
আরো পড়ুন: চোখের জলে রাবিতে শাহরিয়ারকে শেষ বিদায়
এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার বিকেলে নাম না জানা ৩০০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করে। পরে সন্ধ্যা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি শিথিল করা হয়। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সবাই কাজে যোগ দিন। তবে ইন্টার্নরা আল্টিমেটাম দিয়ে রেখেছেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী রাবি শিক্ষার্থীরা গ্রেপ্তার না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেবেন। তবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি।
আরো পড়ুন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের বারান্দা থেকে পড়ে ছাত্রের মৃত্যু
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান জানান, অভিযোগটির প্রাথমিক তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত হবে।
এদিকে শাহরিয়ার কেন হলের বারান্দার ছাদ থেকে পড়ে গেছেন সে প্রশ্নের উত্তর এখনও মিলছে না। তিনি নিজে ছাদ থেকে ঝাপ দিয়েছিলেন, অসতর্কতায় পড়ে গিয়েছিলেন নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে তা কেউ নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, শাহরিয়ারের ছাদ থেকে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
নগরীর মতিহার থানার ওসি আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, ‘শাহরিয়ার ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন, এটা সত্য। কিন্তু কীভাবে পড়েছেন সেটা প্রশ্ন। নিজে লাফ দিয়েছেন, অসতর্কতায় পড়েছেন নাকি অন্য কেউ ফেলে দিয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। গোপনে ঘটনা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
শিরিন সুলতানা/ মাসুদ