ঢাকা     সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩ ১৪৩১

দুর্ভোগের অপর নাম মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক

মেহেরপুর প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৫২, ১১ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৩:৫৫, ১১ ডিসেম্বর ২০২২
দুর্ভোগের অপর নাম মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক

জনদুর্ভোগের শেষ নেই মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে। সড়কের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দক আর ভাঙা হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা। এদিকে সড়কটি পুনরায় নির্মাণের জন্য অনুমোদন হলেও এখনো শুরু হয়নি কাজ। দ্রুত রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন এই মহাসড়ক দিয়ে। কিন্তু বিভিন্নস্থানে খানাখন্দ আর ভাঙাচুরার কারণে রাস্তাটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় তাই ঝুঁকি নিয়েই রাস্তাটিতে চলাচল করছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এমনকি এসব যানবাহন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক দেরিতে পৌঁছাচ্ছে গন্তব্যে। দীর্ঘদিন রাস্তাটি মেরামত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রী ও চালকরা।

মেহেরপুর গাংনী উপজেলার তিরাইল গ্রামের বাসিন্দা হাসান বলেন, ‘রাস্তাটি নিয়ে ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। বারবার পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েও কাজ হয়নি। এই রাস্তায় যাতায়াতকারী গাড়ির কারণে সৃষ্ট ধুলাবালিতে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। রাস্তার হিয়ারিং খুলে গেছে। রাস্তায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।’ 

একই গ্রামের হান্নান বলেন, ‘সড়কটির একদিকে হিয়ারিং করলে অন্যদিকে উঠে যায়। মাঝে মধ্যে সড়ক ও জনপথের লোকজন সংস্কারের জন্য রাস্তা মাপ-ঝোক করে যায় কিন্তু  মেরামতের কোনো লক্ষণ আমরা দেখি না।’

অটোরিকশা চালক তাহের বলেন, ‘এ সড়কের আগা-গোড়া খারাপ। ভাঙাচরা রাস্তায় যাওয়া আসার ফলে গাড়ির বল বিয়ারিংসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় কোনো অসুস্থ মানুষ গাড়িতেই উঠতে চায় না। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে থাকলেও দেখার মতো কেউ নেই।’

মেহেরপুরের অ্যাম্বুলেন্স চালক মিন্টু মিয়া জানান, জরুরি প্রয়োজনে বা কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলে এ রাস্তা যেন আরও অসুস্থতা বাড়িয়ে দেয়। এক ঘণ্টার পথ যেতে দুই-তিন ঘণ্টা লেগে যায়।’ 

রাজশাহীর সবজি ব্যবসায়ী আমিনুল বলেন, ‘মেহেরপুর জেলার সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কিন্তু মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কটির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছি। রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে বাইরে থেকে এখানে গাড়ি আসতে চায় না। এলেও বাড়তি ভাড়া দাবি করে। রাস্তাটি মেরামত হওয়া জরুরি।’

বাসচালক রমিজ হোসেন বলেন, ‘গাংনী টার্মিনাল এলাকাসহ গাংনীর গাড়াডোব, পুড়াপাড়া, বাঁশবাড়িয়া, মালশাদহ, তেরাইল, অলীনগর, বামন্দী, ছাতিয়ান, বাওট, আকুবপুর, খলিশাকুণ্ডি পর্যন্ত সড়ক খানাখন্দকে ভরে গেছে। সড়কটির বেশির ভাগ অংশের পিচ ও পাথর উঠে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে এক প্রকার ঝুঁকি নিয়ে বাস-ট্রাকসহ পণ্যবাহী পিকআপ, অ্যাম্বুলেন্স চলছে। এতে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা।’

মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে রাস্তাটি নির্মাণের জন্য ৬৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। চলতি অর্থবছরে (জুন/২৩) কাজের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজও তা শুরু হয়নি। টেন্ডারসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।’ 

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘যতো দ্রুত সম্ভব সড়কটির কাজ শেষ করা হবে। সড়কটি নির্মাণের জন্য এরইমধ্যে ৬৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়ার্ক অর্ডারও সম্পন্ন হয়েছে। ছয়টি ফেজে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি তৈরি হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব পরিবর্তন হবে।’

মহাসিন/ মাসুদ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়