ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৮ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১

সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর বাবাকে গণশৌচাগারে ফেলে গেলেন ছেলে

রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৪, ১৮ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১৭:৪৪, ১৮ মার্চ ২০২৩
সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর বাবাকে গণশৌচাগারে ফেলে গেলেন ছেলে

বৃদ্ধ লিয়াকত আলী (৭৫) নিজের বসতভিটা লিখে দিয়েছিলেন সন্তানদের। তারপর আর সেই বাড়িতে জায়গা হয়নি তার। থাকতে হচ্ছিল ভাড়া বাড়িতে। কিন্তু ভাড়ার টাকা দিতে পারেন না বলে বাড়ির মালিক এক ছেলেকে ডেকে তার বাবাকে নিয়ে যেতে বলেন। খবর পেয়ে ছেলে তার বাবাকে ভাড়া বাড়ি থেকে নিয়ে গেলেও নিজের বাড়িতে নেননি। ফেলে গেছেন গণশৌচাগারে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বৃদ্ধকে গণশৌচাগার থেকে উদ্ধার করে। পরে তিন ছেলেকে ডেকে বৃদ্ধ লিয়াকত আলীকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, লিয়াকত আলীর তিন ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলেরাও আলাদা আলাদা সংসার করেন। একপর্যায়ে লিয়াকত আলী তার বসতভিটা সন্তানদের নামে লিখে দেন। এদিকে, প্রথম স্ত্রী মারা যাবার পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। এই স্ত্রীকে নিয়ে তার জায়গা হয়নি নিজের বাড়িতে। তাই বাধ্য হয়ে নগরীর কাজলা এলাকার এক বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কিন্তু লিয়াকত বাড়ির ভাড়া দিতে পারতেন না বলে মালিক বৃদ্ধর ছোট ছেলে সুমন আলীকে ডেকে তার বাবাকে নিয়ে যেতে বলেন।

শুক্রবার সকালে সুমন তার বাবাকে ভাড়া বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। কিন্তু নিজের বাড়ি না নিয়ে তালাইমারী এলাকার একটি গণশৌচাগারে ফেলে রেখে যান। খবর পেয়ে বিকেলে সেখানে যান বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন। তিনি লিয়াকত আলীর তিন ছেলেকে ডেকে তাদের বাবাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বাধ্য করেন। ঘটনাস্থলে আসা তিন ছেলের কেউই এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। এটি তাদের পারিবারিক সমস্যা বলে এড়িয়ে গেছেন।

বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, ‘লিয়াকত আলীর ছেলেরা মোটামুটি সচ্ছল। তারা ইচ্ছে করলে তাদের বাবার দেখাশোনা করতে পারেন। তাদের বলা হয়েছে, পালা করে তিন ছেলে বাবাকে নিজ নিজ বাড়িতে রাখবেন। এর ব্যতিক্রম হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পিতামাতার ভরণ-পোষণ না করলে শাস্তির বিধান রয়েছে।’

কেয়া/কেআই

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়