ঢাকা     সোমবার   ২০ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৬ ১৪৩১

জামিনের পর আসামিকে পুলিশী পাহারায় বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩২, ২৯ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ১৮:৪৯, ২৯ মার্চ ২০২৩
জামিনের পর আসামিকে পুলিশী পাহারায় বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার অভিযোগ

পাবনায় আওয়ামী লীগ নেতা শামীম হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইমরান হোসেনের জামিনের পর তাকে পুলিশী পাহারায় বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৯ মার্চ) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করেন নিহত শামীমের স্ত্রী রিক্তা আরা খাতুন।

রিক্তা আরা খাতুন এ সময় অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামী শামীম হোসেনকে যে অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে র‌্যাব সেই অস্ত্র উদ্ধার করলেও তা চার্জশীটভুক্ত করেনি পুলিশ। আসামিদের মামলা থেকে বাঁচানোর জন্য মামলাটি পুলিশ দুর্বল করেছে। 

আসামি ইমরান হোসেন জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর পুলিশ কী করে তাকে পাহারা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়? কীভাবে তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাড়িতে পুলিশ পাহারা বসায়? সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলেছেন রিক্তা আরা খাতুন। 

এ সময় রিক্তা আরা আরো অভিযোগ করে বলেন, মামলার বাদিকে হত্যাকারীরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য শাসানো হচ্ছে। এই হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি হেমায়েতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নিলুর শ্যালক পুলিশের উচ্চপদস্থ জনৈক কর্মকর্তা হত্যাকারীদের বাঁচাতে কলকাঠি নাড়ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতসহ চারটি দাবি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন গৃহবধূ রিক্তা আরা খাতুন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাবনা সদর উপজেলার হিমাইতপুর ইউপি নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নাজিরপুর হাটপাড়া প্রাইমারী স্কুলের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 

এ ঘটনায় নিহত শামীমের বাবা নুর আলী প্রামানিক বাদী হয়ে ১৬ জন নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দুই নম্বর আসামি তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্তি পান। এর কয়েকদিন পর তিনি মারা যান। পরে প্রধান আসামি ইমরান হোসেন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গত ২৩ মার্চ ইমরান পাবনার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। 

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, যেহেতু এটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড তাই আসামি জামিনে বের হয়ে বাড়িতে ফেরার পর সমস্যা তৈরি হতে পারে- এমন তথ্য ছিল আমাদের কাছে। সে কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশের একটি টহল টিম মোতায়েন করা হয়েছিল। যাতে মামলার বাদি-বিবাদির মধ্যে কোনো ঘটনা না ঘটে। তবে আসামিকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া বা শুধু আসামির বাড়িতে নিরাপত্তা দেয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মোতায়েন ছিল। অন্য কোনো কারণে নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নিহতের বাবা নুর আলী প্রামানিক, চাচা আবু দাউদ রনি, চাচাতো ভাই রাশেদ হাসান মিঠুন, আত্মীয় পাভেল হাসান জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

শাহীন/তারা 

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়