ঢাকা     শনিবার   ১৩ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

লিফট কিনতে তুরস্ক যাচ্ছে পাবিপ্রবির ৬ প্রতিনিধি 

পাবনা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ৩০ মে ২০২৩   আপডেট: ২২:০৯, ৩০ মে ২০২৩
লিফট কিনতে তুরস্ক যাচ্ছে পাবিপ্রবির ৬ প্রতিনিধি 

লিফট কিনতে ও তদারকির নামে তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। আগামী ৭ জুন সফরে গিয়ে তাদের ফেরার কথা রয়েছে ১৪ জুন। তাদের এই সফর হওয়ার কথা ছিল গত ৯ মে।

এদিকে, প্রকল্প পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঠিকাদারের সরবরাহ করার আগে লিফটের মান যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। যা ঠিকাদারের শিডিউলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ জন্য আলাদাভাবে কোনো অর্থ খরচ হচ্ছে না।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১২ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন ২টি, দশতলা বিশিষ্ট শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ২টি এবং দশতলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন একটিসহ মোট পাঁচটি আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণাধীন এসব ভবনের জন্য কেনা হবে ২৫টি লিফট। আর সেই লিফট কেনাকাটা ও তদারকির নামে তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল।

৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মোস্তফা কামাল খান। 

প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যরা হলেন- কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে. এম. সালাহ উদ্দীন, প্রকল্প পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট কর্নেল জি এম আজিজুর রহমান, প্রকৌশলী ফরীদ আহম্মেদ, রিপন আলী ও জহির মুহা. জিয়াউল আবেদীন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, লিফটের মান যাচাইয়ে একাধিক সফরকে একসঙ্গে করে সফর করায় খরচ সাশ্রয় করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট কর্নেল জি এম আজিজুর রহমান বলেন, ‘২০১৮ সালে যখন প্রকল্পটির কাজ পান ঠিকাদার, তখন সেই প্রকল্পের মধ্যেই সবকিছু সংযুক্ত রয়েছে। সেজন্য লিফট সরবরাহ করার জন্য আলাদা কোনো ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়নি। সেই সঙ্গে লিফটের যে বিশদ বিবরণ টেন্ডারে উল্লেখ করা হয়েছে- সেখানে মান যাচাই বাছাই করতে প্রি শিপমেন্ট ইনস্পেকশনের কথা রয়েছে। যার ব্যয় ঠিকাদারই বহন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অতিরিক্ত অর্থ খরচ হবে না।’

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে. এম. সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘আমরা যে লিফট সরবরাহটা গ্রহণ করবো, সেটি আসছে কি না এ বিষয়টি নিশ্চিত করা। সেখানে গিয়ে আমাদের প্রকৌশলীরা ওই মেশিনে সিগনেচার করে আসবে। আমরা সেটি দেখে গ্রহণ করবো। ২০১৮ সালে টেন্ডারের মধ্যেই এসব খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমরা যদি জিনিসটা না দেখে আসি, তাহলে নিম্নমানের পণ্য দিতে পারে। সেটা যাচাই বাচাই করার জন্যই মূলত আমাদের যাওয়া।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেন, ‘এখানে শুধু নয়, যেকোনো জায়গায় যখন লিফট আনা হয় তখন সমস্ত জায়গা থেকে তারা ইনস্পেকশনে যান। এটা নতুন কিছু না, পুরোনো প্র্যাকটিস। ২০১৮ সালে যখন প্রকল্প সাইন হয়েছিল তখনই এটা অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই হিসেবে এখন আমাদের টিম যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সাশ্রয় করেছি অনেক। আমাদের কয়েকটা দেশে যাওয়ার কথা ছিল। সবমিলিয়ে আমরা বাজার দর, এলসি খোলার সমস্যা, নানা কিছু মিলিয়ে আমাদের টিম তুরস্কে যাচ্ছেন। যারা অভিজ্ঞ শুধু তারাই যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কিন্তু আমার যাওয়ার কথা, কিন্তু আমি যেহেতু লিফটের অভিজ্ঞ নই, সেকারণে আমি যাচ্ছি না। আমাদের টিমটাকে সেইভাবেই তৈরী করেছি, তারাই যাচ্ছেন এবং খুবই অল্প সময়ের মধ্যে তারা ফিরে আসবেন।’

এদিকে, লিফট কেনার নামে এ ধরনের সফরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা জুড়ে চলছে নানা সমালোচনা।  

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) পাবনার সভাপতি আব্দুল মতীন খান বলেন, টেন্ডারে যদি অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে তাহলে যখন টেন্ডার শিডিউল তৈরী হয়েছে তখন বিষয়টি ভাবার দরকার ছিল। তখন অপচয় করা হয়েছে। এখন হয়তো সেটি সংশোধন করা সম্ভব নয়। কিন্তু ঠিকাদারের খরচে গেলেও সেটি আগে দেখার দরকার ছিল যে একটা পণ্য কেনার জন্য বিদেশ যাওয়া কতটা যৌক্তিক।

পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু বলেন, প্রো-ভিসি, কোষাধ্যক্ষ তারা তো এ লাইনে অভিজ্ঞ নন। ঠিকাদারের খরচে যাবে তাহলে প্রশ্ন, ঠিকাদারের টাকা কে দেবে? সে টাকা তো বিশ্ববিদ্যালয়েরই টাকা, সরকারের টাকা। তার মানে দাঁড়ায় এ খরচটা ঠিকাদারকে তারা আগেই ধরিয়ে দিয়েছেন। আবার ঠিকাদার নিয়োগ করে কেন বিদেশ যাবেন? 

উল্লেখ্য, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১ জুলাই। প্রকল্পের প্রাথমিক অনুমোদিত ডিপিপি ব্যয় ছিল ৪৮০ কোটি ৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ দু’বার বাড়িয়ে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৩৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সর্বশেষ মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর।

শাহীন/ মাসুদ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়