ঢাকা     শনিবার   ২৫ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩১

বিএসএফের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩  
বিএসএফের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ফাইল ফটো

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সীমান্তে অবৈধভাবে গরু পাচার করতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মানিক মিয়া নামের এক যুবক নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহতের বাবা মো. আব্দুল বাতেন বাদী হয়ে বিএসএফের নাম না জানা সদস্যদের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার রাতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপ কুমার সরকার। 

এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর বুকে ক্ষত থাকা অবস্থায় মানিক মিয়ার লাশ উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহত মানিক মিয়া উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের বেহুলারচর গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে পুলিশ জানায়, গত রোববার রাতে একদল গরু ব্যবসায়ী মোল্লারচর সীমানা পিলারের পাশ দিয়ে অবৈধভাবে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে ভারতীয় গরু পাচার করছিলেন। এসময় টহলরত কুচনিমারা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা গরু পাচারকারীদের লক্ষ্য করে পরপর ৪ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে মানিক মিয়া বুকে ও কোমড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় সঙ্গে থাকা লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রৌমারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ও বিজিবি’র মামলার ভয়ে মানিকের লাশ উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর গ্রামের আব্দুল মোতালেবের বাড়িতে নিয়ে যায় সঙ্গে থাকা লোকজন। 

খবর পেয়ে ১৬ ঘণ্টা পর পুলিশ ওই বাড়ি থেকে মানিক মিয়ার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করেন।

শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে ভারতীয় সীমান্তে অবৈধপথে গরু পাচার করতে গেলে বিএসএফের গুলিতে মানিক মিয়ার মৃত্যু হয়। 

মানিক সীমান্তে অবৈধ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, রৌমারী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ভারতীয় সীমান্তঘেষা এবং এসব সীমান্ত এলাকায় মানিকের মতো কয়েকশ যুবক গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপ কুমার সরকার বলেন, ভারতীয় সীমান্তে হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে নাম না জানা বিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, গত রোববার উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের আত্মীয়র বাড়ি থেকে মানিক মিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে বাঁ পাঁজরে একটি ছোট ফুটো এবং বুকের ডান দিকে আরেকটি ফুটো ছিল। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জামালপুর বিজিবি-৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবদুল্লাহ আল মাশরুকি বলেন, সীমান্তে গুলির ঘটনায় গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বিএসএফ গুলির ঘটনা স্বীকার করেছে। আমরা সীমান্ত হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছি। 

এদিকে ভারতীয় বিএসএফ'র নামে বাংলাদেশের থানায় হত্যা মামলা করার বিষয়টি আইনসিদ্ধ কি না তা জানার জন্য থানার ওসির নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

বাদশাহ/ মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়