ঢাকা     শনিবার   ০২ মার্চ ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩০

জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় গ্রাম পুলিশসহ গ্রেপ্তার ৪

জয়পুরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ৪ ডিসেম্বর ২০২৩  
জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় গ্রাম পুলিশসহ গ্রেপ্তার ৪

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার শিকটা গ্রামে ছুরিকাঘাতে সৈয়দ আলী আকন্দ (৮০) নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার মামলায় গ্রাম পুলিশসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নূরে আলম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের শিকটা গ্রামের আকামুদ্দিনের ছেলে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হারুনুর রশিদ (৪০), একই গ্রামের আবু তালেব ফকিরের ছেলে সুজন মিয়া (২৩), মোবারক আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৩৫), মোহাম্মদ আলীর ছেলে নাজির হোসেন (৩৫)।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা নগদ অর্থ, ছুরি, দলিলের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। আসামিরা দুই লাখ টাকা ওই ঘর থেকে নিয়ে যান। সেই অর্থের মধ্যে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা আসামিরা খরচ করেছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, ‘গত ১ ডিসেম্বর সকালে কালাই শিকটা গ্রামের সৈয়দ আলীর নিজ ঘরের মধ্যে তার গলা কাটা লাশ পরে আছে বলে সংবাদ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে আমাদের তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে অজ্ঞাত আসামিরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে কালাই থানায় মামলা করা হয়।’

পুলিশ সুপার বলেন, থানা পুলিশ এবং জয়পুরহাট গোয়েন্দা বিভাগসহ মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। গোপন সূত্র ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানা গেছে, সৈয়দ আলী হত্যার ঘটনার সঙ্গে শিকটা গ্রামের হারুনুর রশিদ জড়িত আছে। তাকে গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুজন মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাজির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আসামিরা পুনট বাজারে নাজির হোসেনের দোকানে পরিকল্পনা করে সৈয়দ আলী আকন্দের কাছে থাকা টাকা চুরি করবে এবং চুরির টাকা আসামি নাজিরকে দিলে সে ব্যবসা করে তাদের লাভ দিবে। সেই পরিকল্পনায় তারা ধারালো ছুরিসহ ওই বাড়িতে যায়। বাড়ির ভিতর থেকে গেট লাগানো থাকায় হারুন গেটের পাশে কাঁঠাল গাছ বেয়ে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে সুজন গেট খুলে দিলে, ওয়াজেদুল বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে। তারা দেখতে পায়, ঘরের মেইন গেট ও ঘরের দরজা খোলা এবং লাইট জ্বালানো। তখন তারা সৈয়দ আলীর ঘরে প্রবেশ করে দেখে তিনি ঘুমিয়ে আছেন। তারা লাইটের সুইচ বন্ধ করার শব্দে সৈয়দ আলীর ঘুম ভেঙে যায়। সৈয়দ আলী চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামিরা সেখানে থাকা গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলে। পরে দুই পা চেপে ধরে। হারুনের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে ঘরের বাক্সের লক ভেঙে দুই লাখ টাকা এবং একটি প্লাস্টিকের বাজার করা ব্যাগের ভেতর থাকা দলিলসহ ব্যাগ নিয়ে নেয়। ওই সময় ভিকটিম সৈয়দ আলী চিৎকার করার চেষ্টা করলে সুজন মিয়া ছুরি দিয়ে সৈয়দ আলীর গলার কণ্ঠ নালীর নিচে আঘাত করে, ফলে কণ্ঠনালী কেটে যায়। তখন টাকা ও দলিলের ব্যাগসহ তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।

বাকী/ফয়সাল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়