ঢাকা     শনিবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১১ ১৪৩০

আইনমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৫গুণ, নগদ অর্থ ২১৮ গুণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ২২:২৭, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩
আইনমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৫গুণ, নগদ অর্থ ২১৮ গুণ

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের অস্থাবর সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১৫গুণ। আর নগদ অর্থ বেড়েছে ২১৮ গুণের বেশি।

অন্যদিকে পাঁচ বছরের ব্যবধানে স্থাবর সম্পদ প্রায় ৪ গুণ বেড়েছে। এক দশক আগে সংসদ নির্বাচনের সময় তার ব্যাংকে কোনো বিনিয়োগ ছিলো না। কিন্তু দুই মেয়াদে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের পর এবার তিনি সিটিজেন ব্যাংকসহ এক্সিম বাংলাদেশে ৪০ কোটির বেশি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এছাড়া আগের দুই সংসদ নির্বাচনে আইনমন্ত্রীর কাছে কোনো অস্ত্র না থাকলেও এবার একটি পিস্তল আছে। পাঁচ বছরে তার বেড়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতাও।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় এবার তার নামে ৬৮ কোটি ৮৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৪ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ ২০ ভরি সোনা ও প্রায় দেড় হাজার ইউএস ডলার রয়েছে। বর্তমানে স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৮ টাকার।

আনিসুল হক কসবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবারের এই আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন। ২০১৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী না থাকায় বিনাভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী এবারের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন এলএলএম পাস। গত দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছিলেন এলএলবি। এবার হলফনামায় পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ‘সিনিয়র আইনজীবী ও বর্তমানে মন্ত্রী'। আনিসুল হকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১০ বছরে আইনমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ১৫গুণ (১৪ দশমিক ৯৬) বেড়েছে। বর্তমানে তার অস্থাবর সম্পদ ৬৮ কোটি ৮৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৪ টাকার এবং ২০ ভরি সোনা ও প্রায় দেড় হাজার ইউএস ডলার। যা ২০১৪ সালে ছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ১৩ হাজার ইউএস ডলার। ৪টি মটরগাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল।

২০১৮ সালে ছিল ২৪ হাজার ৭৭৯ ইউএস ডলার ও ২০ ভরি স্বর্ণসহ প্রায় ৫ কোটি ৯১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯২ টাকা।
বর্তমানে সিটিজেন ব্যাংক ও এক্সিম বাংলাদেশে তার বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ৪০ কোটি ১০ লাখ টাকা। তার কাছে নগদ আছে ১০ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৯ টাকা, যা ২০১৮ সালে ছিল ৬ লাখ ও ২০১৪ সালে ছিল ৫ লাখ টাকা।

আইনমন্ত্রীর বার্ষিক আয় এখন ১ কোটি ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৭ টাকা, যা ২০১৮ সালে ছিল ৮ কোটি ৬ লাখ ২১২ হাজার ৬৫২ টাকা এবং ২০১৪ সালে ছিল ৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

বর্তমানে বাড়ি ভাড়া থেকে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৫৭৯ টাকা, ব্যাংকে মায়ের নামের সঞ্চয়পত্র থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা, পেশা থেকে প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের মুনাফা বাবদ ৪৩ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮৪ টাকা আয় করেন তিনি। গতবারের তুলনায় ব্যাংকের মুনাফা বাবদ আয় বেড়েছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকের মুনাফা থেকে আয় ছিল ১২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬০ টাকা।

আয়ের উৎস কৃষিখাত ও মৎস্য থেকে ২০১৪ সালে কোনো আয় না থাকলেও ২০১৮ সালে ছিল প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। বর্তমানে এই খাত থেকে আয় প্রায় সাড়ে সাতগুন কমে হয়েছে ৪৩ লাখ টাকা।

২০১৪ সালে ব্যাংক আমানত থেকে আয় ছিল সাড়ে চার কোটি টাকা ও ২০১৮ সালে ছিল ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৯৯২ টাকা।

২০১৪ সালে আইন পেশা থেকে আয় ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা কিন্তু গত ১০ বছর ধরে বর্তমান পেশা থেকে আয় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আনিসুল হকের বর্তমানে স্থাবর সম্পদও বেড়েছে।

এখন তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৮ টাকার, যা ২০১৮ সালে ছিল ৯০ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ টাকার ও পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত ৩টি মৎস্য খামার এবং ২০১৪ সালে ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এছাড়া যৌথ মালিকানায় পৈত্রিকভাবে প্রাপ্ত ৪৮ বিঘা জমি ও একটি বাড়ি, যা ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও সমপরিমাণের ছিল। তার কোনো ঋণ নেই।

স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে বর্তমানে আনিসুল হকের নামে বনানীতে ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাড়ির ৫০ শতাংশে মালিক দেখানো হয়, যা ২০১৮ সালে ছিল না। ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় কেনা দুটি ফ্ল্যাট দেখানো হয়, যা ২০১৮ সালে ৪৫ লাখ টাকায় কেনা ছিল একটি। ২০১৪ সালে হলফনামায় সাড়ে তিন কোটি টাকায় কেনা তিনটি বাড়ি দেখানো হয়েছিল।

মাইনুদ্দীন/ফয়সাল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়