ঢাকা     শুক্রবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||  ফাল্গুন ১০ ১৪৩০

১৬৫ বছরের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চিত্রা পাড়ের বাঁধাঘাট

নড়াইল সংবাদদাতা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪৬, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১৭:০৩, ১১ ডিসেম্বর ২০২৩
১৬৫ বছরের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে চিত্রা পাড়ের বাঁধাঘাট

নড়াইলের চিত্রা পাড়ের জমিদারদের বাঁধাঘাটটি ১৬৫ বছর ধরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নাটোরের রাণী ভবানীর পতনের পর নড়াইলের জমিদার কালী শংকর রায় এ অঞ্চলের প্রভাবশালী জমিদার ছিলেন।

খুলনা-যশোর ও নড়াইল ছিল জমিদারদের অধীন। কালের পরিক্রমা আর হিংস্র হায়েনাদের কালো থাবায় হারিয়ে গেছে অধিকাংশ আলপনা। ওই সময় প্রভাবশালী জমিদার নির্মাণ করেছিলেন চিত্রা পাড়ের জলজ তাজমহল খ্যাত বাঁধাঘাটটি। যা কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭৯১ সালে জমিদাররা এ অঞ্চলে আসে। জমিদার রূপম রায় প্রথমে নড়াইলের আলাদাতপুর তালুক ক্রয়ের মাধ্যমে জমিদারির গোড়া পত্তন করলেও এর প্রকৃত প্রসার ঘটে জমিদার কালী শংকর রায়ের আমলে। ইংরেজদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালুর সময়ে তিনি নামে-বেনামে রাণী ভবানীর তেলিহাটি, বিনোদপুর, রূপপাত, তরফকালিয়া, তরফ দারিয়াপুরসহ বিভিন্ন তালুক ক্রয়ের মাধ্যমে জমিদারির বিস্তৃতি করেন।

এ অঞ্চলের বৃহৎ অট্টালিকা, ডজন খানেক দীঘি, পুকুর, নাট্যমঞ্চ, মন্দির, ফলের বাগানসহ বিশাল রাজবাড়ী নির্মাণ করেন। কালী শংকর রায়ের পর তার দুই ছেলে রাম নারায়ণ নড়াইলের জমিদার এবং জয় নারায়ণ নড়াইলের হাটবাড়িয়ার জমিদার হিসেবে জমিদারি পরিচালনা করতে থাকেন। রাম নারায়ণের মৃত্যুর পর তার বড় ছেলে রাম রতন রায় জমিদারির হাল ধরেন। নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় নড়াইল-লোহাগড়া-নওয়াপাড়া সড়কের পাশে চিত্রা নদীর পাড়ে ১৮৫৩ সালে নির্মাণ করা হয় বাঁধাঘাটটি। জমিদার বাড়ির গৃহবধূদের স্নান করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল এ বাঁধাঘাটটি। চুন সুরকির প্রলেপ আর রেলের স্লিপার দিয়ে বাঁধাঘাটটি তৈরি করা হয়েছিল। ২১টি সিঁড়ি বেয়ে চিত্রা নদীর দিকে নামিয়ে দেয়া হয় ঘাটটি।

বর্তমানে ১৫টি সিড়ি অক্ষত রয়েছে। প্রতি দিনই বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মানুষ নড়াইল জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যবাহী এ বাঁধাঘাট দেখতে আসেন। বাঁধাঘাটের পাশেই রয়েছে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ। শহরে কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায়  বিশেষ দিনগুলোতে বাঁধাঘাটটি দর্শনার্থীদের আড্ডার স্থলে পরিণত হয়। দেশ বিভাগের পর জমিদাররা ভারতে চলে যান। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত দুই একজন আসলেও তারপর আর কেউ আসেননি। ১৯৬৫ সালে জমিদারি প্রথার বিলুপ্ত ঘটে। নড়াইলের বেশ কয়েকজন সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি নিজেদের উদ্যোগে বাঁধাঘাটটি সংস্কার করে নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করেন।

নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের একাদশ শ্রেনির ছাত্রী কানিজ ফাতেমা বলেন, কলেজের ক্লাস যখন থাকে না তখন বন্ধুরা মিলে বাঁধাঘাটে এসে আড্ডা দেই। এখানে মনোরম পরিবেশ থাকে সব সময়। আমাদের খুব ভাল লাগে।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, নড়াইল জেলাটি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ক্রীড়া সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য। জমিদারদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে ডিসি ইকোপার্ক করা হয়েছে। যেখানে বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থী আসেন এবং এটি উপভোগ করেন। চিত্রা পাড়ের বাঁধাঘাটটি বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংস্কার করা হয়েছে।

শরিফুল/ফয়সাল

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়