ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অফিস সহকারীকে ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৩১, ২৮ মে ২০২৪  
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অফিস সহকারীকে ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারী ইয়াছিন মিয়াকে (৪৫) দুর্নীতির দায়ে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে কুমিল্লার স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। কুমিল্লা দুদকের উপ-পরিচালক ফজলুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাজাপ্রাপ্ত ইয়াছিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তাতুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি জেলা শহরে বসবাস করতেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর ইয়াছিনের বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় কুমিল্লা সমন্বিত কার্যালয়ে মামলা  করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান। ওই মামলায় কুমিল্লা স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) সামছুন্নাহার ইয়াছিনকে ৫ কোটি ৩০ লাখ ৮৩ হাজার ৭৭২ টাকা অর্থদণ্ড ও আট বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

দুদক কুমিল্লার সমন্বিত কার্যালয়ে দায়ের করার মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ইয়াছিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১৪ সালের ৭ এপিল থেকে ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সই জাল করে নকল চালান ও তালিকা সৃজনপূর্বক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ের ক্যাশ বই, ফি বইসহ বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন ফি, তল্লাশি ফি ও নকলের ফি বাবদ ৫ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজর ৫৩৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেন। তিনি দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪০৯ তৎসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। 

২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম নিবন্ধন অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর রেজিস্ট্রার অফিসার (আইআরও) নৃপেন্দ্র নাথ সিকদার ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেজিস্ট্রার কার্যালয়, সদর রেকর্ড রুম, সদর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে সদর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ক্যাশবই, ফি বইসহ অন্যান্য রেজিস্ট্রার বইসমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। ক্যাশ বই পরীক্ষা শেষে কিছু চালানের কপি অফিস সহকারীকে আনতে বলেন ওই কর্মকর্তা। অফিস সহকারী শামসুল আলম ও অফিস সহায়ক মো. ইয়াছিন একগুচ্ছ চালানের কপি নিবন্ধন পরিদর্শক কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করেন। তিনি চালানের কপিগুলো এক এক করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। এক পর্যায়ে চালানের অনলাইন ভেরিফিকেশন করে ক্যাশ বইয়ে এন্ট্রির সঙ্গে আদায়কৃত রাজস্বের মিল না পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়। তৎকালীন সাব রেজিস্ট্রার মোস্তাফিজুর রহমানও ক্যাশবই ও বেশ কয়েকটি চালান অনলাইন ভেরিফিকেশন করে কার্যালয়ে থাকা চালানের সঙ্গে মিল পাননি। পরে সোনালী ব্যাংকের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজ চালানের কপি দেখে জানান, সেগুলো ব্যাংক কর্তৃক ইস্যু করা হয়নি। সাব রেজিস্ট্রার তখন বুঝতে পারেন, অফিস সহকারী ইয়াছিন নগদে আদায়কৃত সরকারি রাজস্ব ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। নৃপেন্দ্র নাথ সিকদার ওই বছরের ২৯ নভেম্বর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

নৃপেন্দ্র নাথ সিকদার ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের ব্যাংক চালান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ক্যাশ বই, ফি বইসহ  বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন বইসমূহ পর্যালোচনা করে জানতে পারেন, ইয়াছিন সাড়ে চার বছর পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ফি, তল্লাশি ফি ও নকলের ফি বাবদ আদায়ৃকত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সই জাল করে নকল চালান ও তালিকা সৃজন করে ৫ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজর ৫৩৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

মাইনুদ্দীন/মাসুদ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়