ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মানিকগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে মা ও ২ সন্তানের লাশ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:০৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫  
মানিকগঞ্জে ফ্ল্যাট থেকে মা ও ২ সন্তানের লাশ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ পৌরসভার আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মা এবং দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম বান্দুটিয়া এলাকার যৌথ মালিকানাধীন মুক্তাদির এবং রাহাত সালমানের ভবন থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন, মা শিখা আক্তার (২৯), ছেলে আরাফাত ইসলাম আলভী (৯) এবং মেয়ে সাইফা আক্তার (২)।

আরো পড়ুন:

মৃত শিখা আক্তার প্রবাসী শাহীন আহমেদের (৪২) স্ত্রী। শাহীন এক মাস আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়া পাড়ি জমিয়েছেন। এর আগে তিনি এলাকায় ইজিবাইক চালাতেন। প্রবাসী শাহীন আহমেদ বছর পাঁচেক আগে শিখা আক্তারকে বিয়ে করেন। এটি শাহীন এবং শিখা আক্তার উভয়ের দ্বিতীয় বিয়ে।

এ ঘটনায় পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘‘বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে মা এবং দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইডের উপকরণ মিলেছে। যেহেতু ফ্ল্যাট ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল, সেহেতু মা দুই শিশুসন্তানকে বিষ পান করিয়ে নিজে বিষ পান করেছেন। বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। বাকিটা ময়নাতদন্তে জানা যাবে।’’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাম্পত্য কলহ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।’’

স্বামী শাহীন আহমেদের মামা আমান আনসারী বলেন, ‘‘শাহীনের বাবা-মা নেই। বোনের বাড়ি হরিরামপুরের লেছরাগঞ্জ থেকেছেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর শিখা আক্তারকে পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন। এ ঘরে তার এক কন্যা সন্তান। দেশে থাকা অবস্থায় শাহীন ইজিবাইক চালাতেন। এক মাস ধরে শাহীন মালয়েশিয়া গিয়েছেন। যাওয়ার আগে তিনি তার স্ত্রী-সন্তানদের ভাড়া বাসায় তোলেন। এ বাসায় শিখা আক্তারের আগের ঘরের ৯ বছর বয়সী ছেলে আলভীও থাকত।’’

পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেন বলেন, ‘‘মাস দেড়েক হয় তারা ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছেন। একবারই তার স্বামীকে দেখেছিলাম। পরে শিখা এবং তার ছেলে-মেয়ে এ বাসায় থাকেন। তাদের বাসার বাইরে কখনো দেখা যায়নি। কারেন্ট বিলের টাকা চাওয়ার জন্য আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের দরজায় নক করলে সাড়া পাওয়া যায়নি। কয়েক দফায় চেষ্টা করার পরও সাড়া না পেয়ে বাড়িওয়ালাকে বিষয়টি অবগত করি। পরে তিনি আসেন এবং দীর্ঘক্ষণ ডেকেও সাড়া পাননি।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘কোনো সাড়া না পেয়ে জরুরি জাতীয় সেবা নম্বর ৯৯৯ ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে এবং পাশের ফ্ল্যাট থেকে ওই ফ্ল্যাটে ঢোকার চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে খাটের উপর মা এবং মেঝেতে দুই শিশুর লাশ পাওয়া যায়।’’
 

ঢাকা/চন্দন/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়