গাজীপুরে গভীর খননে উধাও কৃষিজমি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল পড়ছে ঝুঁকিতে
গাজীপুর (পূর্ব) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
শীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলসংলগ্ন কৃষিজমির মাটি গভীরভাবে খনন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলসংলগ্ন কৃষিজমিতে গভীর খনন করে অবাধে মাটি লুটের অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে চলা এই কর্মকাণ্ডে একের পর এক কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে বিশাল গর্ত। কোথাও কোথাও প্রায় ১০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। ফলে মাটির নিচের স্তর ভেদ করে বেরিয়ে আসছে মূল্যবান সিলিকন বালু, যা মাটিখেকোদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের বাদশানগর এলাকায় কয়েক একর কৃষিজমিতে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হয়। কাটা মাটি ডাম্প ট্রাকে করে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন সিরামিক কারখানায়। এই ভারী যান চলাচলের কারণে এলাকার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ, চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তারা জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও এই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু কৃষকের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে মাটি কিনে গভীর খনন চালানো হচ্ছে, যার ফলে পার্শ্ববর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঝুঁকিতে পড়ছে।
বাদশানগর এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “সন্ধ্যার পর এলাকায় কোনো স্বাভাবিক শব্দ থাকে না, শুধু ডাম্প ট্রাকের আওয়াজ শোনা যায়। রাতভর ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাই না।”
রফিকুল ইসলাম নামে অপর বাসিন্দা জানান, “কৃষিজমিতে অতিরিক্ত গভীর খননের ফলে উপরের উর্বর মাটি পুরোপুরি উঠে গেছে। নিচে শুধু সিলিকন বালু দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জমি ব্যবহারের অযোগ্য করে তুলবে।”
অভিযোগ উঠেছে এই মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। এ বিষয়ে তিনি জানান, কৃষকদের কাছ থেকে মাটি কিনে তা বিক্রি করেন।
অতিরিক্ত গভীরভাবে জমি খননের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। বর্তমানে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি করেন শহিদুল ইসলাম।
শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “কৃষিজমিতে গভীর খননের ফলে পাশের সংরক্ষিত বনাঞ্চল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।”
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, “মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অভিযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের ধরতে রাতের বেলা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।”
ঢাকা/রফিক/মাসুদ