ঢাকা     সোমবার   ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ২৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০২, ১২ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:১০, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

মিয়ানমারে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দেশটির বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী মামলার শুনানি আজ জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) শুরু হতে যাচ্ছে। খবর আল-জাজিরার। 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) শুরু হতে যাওয়া এই বিচার প্রক্রিয়াটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) পূর্ণাঙ্গভাবে নেওয়া প্রথম গণহত্যা মামলা। এই মামলার ফলাফল মিয়ানমারের সীমানা ছাড়িয়ে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে এবং গাজায় ইসরায়েলের চালানো যুদ্ধের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা পিটিশনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন:

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মামলাটির শুনানি তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।

২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজেতে (যা বিশ্ব আদালত নামেও পরিচিত) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করে। এর দুই বছর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী একটি অভিযান শুরু করেছিল, যার ফলে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

সে সময় জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের ওই সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছিল যে, তাদের সামরিক অভিযানটি ছিল কথিত রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার বিপরীতে একটি বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ।

মিয়ানমারের জন্য গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “এই মামলাটি গণহত্যার সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, এটি কীভাবে প্রমাণ করা হবে এবং কীভাবে লঙ্ঘনের প্রতিকার করা হবে- সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।”

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই গণহত্যা মামলাটি তাদের বিচার পেতে সাহায্য করবে।

দুই সন্তানের জননী ৩৭ বছর বয়সী হানিফা বেগম আল-জাজিরাকে বলেন, “আমরা বিচার ও শান্তি চাই। সামরিক জান্তা যখন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছিল, তখন আমাদের নারীরা তাদের মর্যাদা হারিয়েছে। তারা গ্রাম পুড়িয়েছে, পুরুষদের হত্যা করেছে এবং নারীরা ব্যাপক সহিংসতার শিকার হয়েছে।”

অন্যরা প্রত্যাশা করছেন যে, আইসিজে-র রায় কার্যকর করার সরাসরি কোনো ক্ষমতা না থাকলেও এই মামলা তাদের জীবনে প্রকৃত পরিবর্তন আনবে।

ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা নামক একটি শরণার্থী সংগঠনের সদস্য এবং সাবেক শিক্ষক মোহাম্মদ সায়েদ উল্লাহ (৩৩) বলেন, “আমি আশা করি আইসিজে আমাদের গভীর ক্ষতগুলোতে কিছুটা প্রলেপ দেবে। অপরাধীদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। বিচার যত দ্রুত এবং সুষ্ঠু হবে, ফলাফল তত ভালো হবে... তখনই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।”

মিয়ানমারের ‘উইমেনস পিস নেটওয়ার্ক’-এর প্রধান ওয়াই ওয়াই নু বলেন, এই বিচারের শুরু রোহিঙ্গাদের মনে ‘নতুন আশার সঞ্চার করেছে যে আমাদের কয়েক দশকের দুঃখকষ্টের অবসান ঘটতে পারে’।

তিনি আরো বলেন, “রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে বিশ্বকে অবশ্যই ন্যায়বিচারের পথে অটল থাকতে হবে এবং মিয়ানমারে দায়মুক্তির সংস্কৃতি শেষ করে আমাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে।”

আইসিজে-র এই শুনানিতেই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের কথা আন্তর্জাতিক আদালতে শোনা হবে। তবে সংবেদনশীলতা এবং গোপনীয়তার খাতিরে এই অধিবেশনগুলো জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না।

রোহিঙ্গা অধিকার নিয়ে কাজ করা গোষ্ঠী ‘লিগ্যাল অ্যাকশন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ বলছে, “আইসিজে যদি মিয়ানমারকে গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে দায়ী বলে মনে করে, তাহলে এটি হবে একটি রাষ্ট্রকে গণহত্যার জন্য আইনত দায়ী করার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।”

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়