চাঁপাই এক্সপ্রেস’ ব্র্যান্ড নয়, নাহিদের ভাবনায় শুধুই দলের চাওয়া পূরণ
মোস্তাফিজুর রহমান যেন নাহিদ রানা হয়ে ফিরে এসেছেন। বল হাতে তিনি আগুন ঝরাবেন, ব্যাটসম্যানদের নাস্তানাবুদ করবেন। মাঠে তাদের ভয়ের ছাপ স্পষ্ট, কিন্তু মুখে কথা বের হয় না। প্রতিপক্ষকে নিখুঁত আঘাত, দর্শককে মুগ্ধ- এ সব তাদের জন্য সহজ। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন বা গণমাধ্যমের সামনে কথা বলা যেন পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ।
প্রশ্নগুলো দুই-তিন বা চার বাক্যের, কিন্তু উত্তরগুলো শব্দের ভেতর আটকা পড়ে। কখনো কখনো বাক্যটিই অপূর্ণ থেকে যায়। ধরুন, ১০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলন- সব জোরাতালি দিয়েও প্রতিটি উত্তর কখনো পুরো গল্পের মতো পূর্ণতা পায় না। সেখান থেকে ঝরে আসে নিঃশব্দ রহস্য, এক ধরনের ভয়ংকর-সুন্দর মায়াজাল, যা কেবল বল হাতে ফুটে ওঠে।
বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ ওভারের স্পেলে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন নাহিদ। প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতে ১টি করে উইকেট। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে প্রথম ফাইফার। ম্যাচ জয়ের নায়ক হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। ফুল হাউজ সংবাদ সম্মেলনে প্রায় ১৫-১৭টি প্রশ্ন করা হয়। নাহিদের উত্তরগুলো যেন ব্যাকরণের ‘এক কথায় প্রকাশের’ মতোই!
ম্যাচ সেরা হওয়া, ৫ উইকেট পাওয়া, দলকে জেতানো সব মিলিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেন নাহিদের সহজ উত্তর, ‘‘অনুভূতি স্বাভাবিক। সামনে চেষ্টা করবো কিভাবে এই জিনিসটা লম্বা সময়ে ধরে রাখা যায়।’’
মিরপুরের উইকেটে পেস বোলারদের জন্য বিশেষ কিছু থাকে না। বোলারদের উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করে নিতে হয়। নাহিদের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, ঠিক জায়গায় লাগাতার বল করে গেছেন। তাতেই ব্যাটসম্যানরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। গতিতে কেঁপেছেন। নাহিদ বলেছেন, ‘‘উইকেটে হিট করলে কিংবা একটা জায়গাতে লাইন লেন্থ মেইনটেইন করলে ব্যাটসম্যানদের জন্য খেলা কঠিন। আমি ওই জিনিসটা শুধুমাত্র করার চেষ্টা করেছি।’’
পেসারদের টানা ৭ ওভার করা কঠিনই বটে। নাহিদ মুখে চওড়া হাসি নিয়ে সেটা করেছেন। তার অনুভূতি কেমন? জানতে চাইলে বলেছেন, ‘‘আমি সবসময় দলের জন্য চিন্তা করি। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে সবসময় চেষ্টা করি। ওই জিনিসটাই চেষ্টা করেছিলাম। আমার বোলিং ওদের খেলতে সমস্যা হচ্ছিল বলে অধিনায়ক হয়তো চিন্তা করেছে আরও দুয়েকটা ওভার করানো যায় কি না।’’
পাকিস্তানের প্রথম ৯ ওভারে রান ছিল ৩৫, উইকেট পড়েনি একটিও। পরের ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ৭০। কিন্তু ততক্ষণে নেই ৬ উইকেট। যার ৫টিই নেন নাহিদ। ডানহাতি এই পেসার লম্বা সময় পর সাদা বলের ক্রিকেটে খেলেছেন। মাঝে বিপিএলে ভালো করেছিলেন তিনি। ওই সময়ে পাকিস্তানি গ্রেট ওয়াকার ইউনুসের সঙ্গে বোলিং নিয়ে কথা বলেছিলেন। তার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে নাহিদ বলেছেন, ‘‘উনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। উনি জাস্ট একটা জিনিসই বলছিল যে তুমি নিজেকে ফিট রাখো এবং তোমার যে স্ট্রেংথ এই জিনিসটা কখনো হারাতে দিও না এবং তুমি নিজেকে ফিট রাখো এবং লং টাইম খেলার জন্য ফিটনেস ঠিক রাখো। যত ম্যাচ খেলবা তত শিখবা।’’
পেসারদের সঙ্গে ‘এক্সপ্রেস’ নামটা জুড়ে দেওয়া হয় সব সময়ই। বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মুর্তজাকেই যেমন বলা হয় ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। পাকিস্তানের শোয়েব আক্তারকে ডাকা হয় ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ নামে। নাহিদকে কি তাহলে নিজের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নামে ‘চাঁপাই এক্সপ্রেস’ নামে ডাকা হবে? সংবাদ সম্মেলনের শেষ প্রশ্ন ছিল সেটি। মুখে চওড়া হাসি নিয়ে নাহিদ উত্তর দিয়েছেন এভাবে, ‘‘আমি নিজেকে কোনো ব্র্যান্ড মনে করি না। আমি নিজেকে মনে করি একটা স্বাভাবিক মানুষ। চেষ্টা করি কীভাবে ভালো ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারব।’’
নিজেকে ব্র্যান্ড মনে না করলেও বল হাতে আলো কেড়ে এরই মধ্যে নাহিদ নিজের আগমণী বার্তা ক্রিকেট বিশ্বকে দিয়েছেন। এখন কেবল এগিয়ে যাওয়ার পালা।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল