রোহিঙ্গা কিশোরদের সঙ্গে ফুটবলে মেতেছিলেন মেসুত ওজিল
কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কিশোরদের সঙ্গে ফুটবল খেলেছেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী দলের সাবেক তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুতুপালং ৪ নম্বর বর্ধিত ক্যাম্পের একটি মাঠে এই ফুটবল খেলা হয়। সন্ধ্যায় তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইফতার করেন।
বেলা ১১টায় ওজিল কক্সবাজারে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের ছেলে বিলাল এরদোয়ান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় থেকে গাড়িবহর নিয়ে তারা প্রথমে উখিয়ার বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান। সেখানে ক্যাম্পের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন ওজিল। বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার উপস্থিতিতে ক্যাম্পজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। রোহিঙ্গা শিশু-কিশোররা ‘ওজিল ওজিল’ ধ্বনিতে স্লোগান দিতে থাকে। ওজিল ও বিলাল শফিউল্লাহ কাটা ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আয়োজিত সেমিনারে যোগ দেন।
এ সময় বিলাল জানান, আট বছর আগে তিনি তার মায়ের সঙ্গে এই ক্যাম্পে এসেছিলেন। তখন থেকে তিনি রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা জানেন।
তিনি বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা তাদের পাশে আছি। আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান, রোহিঙ্গাদের মানুষ হিসেবে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।’’
বাংলাদেশ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিলাল এরদোয়ান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, সে জন্য ধন্যবাদ। একই সঙ্গে মেসুত ওজিলকেও ধন্যবাদ, তিনি নিজে এসে শিশুদের সমস্যাগুলো দেখেছেন এবং সমাধানে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।’’
সেমিনার শেষে শফিউল্লাহ কাটা ১৬ নম্বর ক্যাম্পের কম্পিউটার ল্যাব ও কালচারাল সেন্টার পরিদর্শন করেন ওজিল। রোহিঙ্গা শিশুশিল্পীরা তাকে গান গেয়ে শোনায়। পরে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন। পরে কুতুপালং ৪ নম্বর বর্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি ফুটবল মাঠে কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচ উপভোগ করেন ওজিল। একপর্যায়ে তিনি খেলায় অংশ নেন। ১০ মিনিট খেলেন। বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার সঙ্গে খেলতে পেরে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে কিশোররা। তাদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক।
মেসুত ওজিল বলেন, ‘‘সবাইকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা। আজ এখানে দুই দলই খুব ভালো খেলেছে। আমি নিজেও তাদের সঙ্গে খেলেছি। বাংলাদেশের এই জায়গায় এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি খুব খুশি। সবার সফলতা কামনা করছি। আবার দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।’’
খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। পরে সন্ধ্যায় ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন ওজিল।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, তুরস্কের একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে, রমজানের প্রথম রোজার ইফতার তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করেন। সেই মানবিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ থেকেই তুর্কিরা রোহিঙ্গাদের নিজেদের পরিবারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করেছেন।
মিজানুর রহমান আরো বলেন, গত আট বছর ধরে রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু নানা জটিলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে প্রত্যাবাসন-প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শরণার্থী শিবিরগুলোতে নানামুখী সামাজিক ও মানবিক সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। গত ৮ থেকে ৯ বছর ধরে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করে লাখো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে।
ঢাকা/তারেকুর/বকুল