ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২ || ২০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ায় এখন আর ওষুধের টাকা নিয়ে চিন্তা নেই মোর্শেদার

বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৩, ১০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৬:২৯, ১০ মার্চ ২০২৬
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ায় এখন আর ওষুধের টাকা নিয়ে চিন্তা নেই মোর্শেদার

মঙ্গলবার সকালে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালবাড়ি গ্রামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়

ফ্যামিলি কার্ডের টাকা শুধু খেয়ে শেষ করতে চান না পারভীন বেগম। তিনি চান, প্রতি মাসে সহায়তার টাকা থেকে কিছু জমিয়ে গবাদি পশু কিনে পালন করতে, যাতে করে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারেন। 

মোর্শেদা জান্নাত নামের আরেক নারী জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত। স্বামী দিনমজুর আর ছেলে সামান্য আয় করে। সব মিলিয়ে তাদের সংসার চলে না। হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য যে ওষুধের দরকার, সেটা কেনা অনেক জরুরি ছিল। ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার আগেই তার মোবাইল অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ৫০০ টাকা চলে আসায় তিনি কিছুটা নির্ভার হয়েছেন। অন্তত ওষুধের টাকা নিয়ে তাকে চিন্তা করতে হবে না। 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ফ্যামিলি কার্ড ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর এভাবেই সাংবাদিকদের কাছে নিজেদের জানিয়েছেন সুবিধাভোগী এই দুই নারী।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালবাড়ি গ্রামে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। এর আগে সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

দেশের ১৪টি উপজেলার ১৪টি ওয়ার্ডে একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। বগুড়ার গোপালবাড়ি গ্রামে প্রাথমিকভাবে ৪৯৬ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৮৬৮ জন এ কার্ড পাবেন।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সময় জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেছেন, “ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নের সময় কোনো দল-মত দেখা হয়নি। যদি হতো, তাহলে সরকারি লোকজন এই তালিকা করতেন না। দলের লোকজন করতেন। আমি নিজেও এসেছি, তালিকা প্রণয়নের কাজ দেখতে।”

জেলা প্রশাসক বলেন, “নির্বাচনের পরে একটি সরকার যখন গঠিত হয়, তখন সেই সরকার হয়ে যায় সব সবার। সকল দলের হয়ে যায় সরকার। সেখানে যদি বিভাজন থাকে, তাহলে একটি অংশ সমাজে পিছিয়ে পড়বে। সেটি বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান না। কারণ কী? কারণ, আমাদের সমাজের একটি অংশ যদি পিছিয়ে থাকে, তাহলে সকলকে নিয়ে উন্নয়ন করা সম্ভব না।”

এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাউল করিম, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ-উন নবী সালাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/এনাম/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়