ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৭ ১৪৩৩ || ১৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিরোধীদলকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে, আমরা রাজপথেই আছি: আযাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০৭, ৩০ এপ্রিল ২০২৬  
বিরোধীদলকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে, আমরা রাজপথেই আছি: আযাদ

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, “আমরা কর্মসূচি নিয়ে রাজপথেই আছি। রাজপথেই সমাধান করতে হবে। কারণ সরকার উদ্যোগ না নিলে সংসদে সমাধান কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার এগিয়ে এলে এটা সহজ ছিল। সরকার যেহেতু বিরোধীদলকে রাজপথে ঠেলে দিচ্ছে, তাই আমরা রাজপথেই আছি, রাজপথেই থাকব।”

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণের লক্ষে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

এ সময় তিনি বলেন, “সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে শুরুতেই ন্যক্কারজনক কাজ করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে সকল সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার কথা। সরকারি দল সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। এখন তারা সংসদে ছলচাতুরী করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দেশবাসীকে সজাগ করছি। এটার বিরুদ্ধে আরো জনমত তৈরি করতে হবে।”

১১ দলীয় ঐক্যের এই সমন্বয়ক বলেন, “আমাদের আন্দোলনকে আরো বেগবান ও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য জনগণের সমস্যাগুলো সমাধানে জনগণকে সম্পৃক্ত করে আমরা ১১ দল রাজপথে আন্দোলন আরো জোরদার করতে চাই। সে লক্ষ্যে ৭টি বিভাগে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এ সময় তিনি প্রায় আড়াই মাসব্যাপী নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগামী ১৬ মে রাজশাহীতে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হবে। এরপর ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ হবে। এসব সমাবেশে সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় শহর ও জেলাকে সম্পৃক্ত করা হবে। এবং বিভাগীয় সমাবেশের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ১১ দলের বৈঠকে জেলা পর্যায়ে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। এছাড়া সব দল নিজেদের মতো করে গোলটেবিল বৈঠক করবে। সব শেষে অক্টোবরে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে মহাসমাবেশ। একটি বড় সমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমাদের মূল দাবি হলো- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা। আমরা লক্ষ্য করছি যে, শিক্ষাঙ্গণে সন্ত্রাস চলছে এবং সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন দ্বারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের কর্মসূচি নিয়েছি। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় কর্মসূচি থাকবে।”

১১ দলীয় ঐক্যের এই সমন্বয়ক বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজপথের আন্দোলন আরো বেগবান করতে চাই। সেই লক্ষ্যে বিভাগীয় এই সমাবেশগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলাকে সম্পৃক্ত করে বিশাল সমাগম করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হবে এবং জেলা পর্যায়ে সফর করবেন নেতারা। এ সময় বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো-আগামী অক্টোবর মাসের দিকে একটি বড় সমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।”

সংবাদ সম্মেলন ও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী প্রমুখ।

ঢাকা/রায়হান/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়