ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১২ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৭ ১৪৩২ || ২২ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সৌদিসহ ৭ দেশের প্রস্তাব পাস, ‘চাপে’ ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০২:২১, ১২ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ০৩:৪৫, ১২ মার্চ ২০২৬
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সৌদিসহ ৭ দেশের প্রস্তাব পাস, ‘চাপে’ ইরান

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (ইউএনএসসি) উপসাগরীয় সাতটি দেশের আনা একটি খসড়া প্রস্তাব পাস হয়েছে। এতে ইরানকে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ইউএনএসসির ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে ১৩টি পক্ষে ভোট দিয়েছে। বাকি দুটি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। তবে এর বিরুদ্ধে কোনো দেশ ভোট দেয়নি।

আরো পড়ুন:

এই প্রস্তাব পাসকে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবশ্য ইরান প্রস্তাবের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েও ইউএনএসসিতে সুবিধা করতে পারেনি।

ইউএনএসসিতে প্রস্তাব আনা সাত দেশ হলো, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডান। এর মধ্যে প্রথম ছয়টি দেশ গালফ কো-অপরাশেন কাউন্সিলের সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আগ্রাসন শুরু করার পর প্রতিরোধ যুদ্ধ ঘোষণা করে তেহরান। তারা শুধু ইসরায়েলে নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশে হামলা চালায়, যা অব্যাহত রয়েছে। তবে এই সাত বলছে, তাদের দেশে হামলা চালানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর ইরান বলছে, তারা শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। অবশ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এসব দেশের বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত করেছে, এমন অনেক প্রমাণ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সাত দেশের আনা খড়সা প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে যাওয়ার আগেই ইরান এর বিরোধিতা করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‍“এই প্রস্তাব গৃহীত হলে পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সাত দেশের আনা প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরান যেন তাদের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সায়েদ ইরাভানি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের কিছু সদস্য ভুক্তভোগী ও আগ্রাসীর ভূমিকা উল্টে দিতে চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “তারা পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে আগ্রাসীদের পুরস্কৃত করতে এবং ভুক্তভোগীকে শাস্তি দিতে চায়।”

ইরাভানি সতর্ক করে বলেন, “এই প্রস্তাব গৃহীত হলে তা নিরাপত্তা পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে।”

“এই প্রস্তাব পাস হলে তা নিরাপত্তা পরিষদের সুনাম ও মর্যাদার ওপর একটি কলঙ্ক হয়ে থাকবে। এতে আগ্রাসী হিসেবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কৃত হবে এবং তারা আরো আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হবে,” বলেন তিনি।

ইরাভানি বলেন, “এর প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আজ ইরান, কাল অন্য কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রও এর শিকার হতে পারে।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করতে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে দাবি করে ইরাভানি বলেন, এসব হামলায় ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩০০-এরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

ইরাভানি বলেন, এসব হামলায় ৯ হাজার ৬৬৯টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ৯৪৩টি আবাসিক বাড়ি এবং ১ হাজার ৬১৭টি বাণিজ্যিক ও সেবাকেন্দ্র। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক হামলার কারণে এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

ভোটে অনুপস্থিত রাশিয়া-চীন, ‘চাপে’ ইরান
সাত দেশের প্রস্তাব ইউএনএসসি গ্রহণ করায় এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাস্তবে এর কার্যকারিতা কতটা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। ইতিহাসে অনেকবার দেখা গেছে, লেবানন ও গাজা উপত্যকা বা অন্য ক্ষেত্রে কিছু দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে এই প্রস্তাবটি কিছুটা ভিন্ন। কারণ এটি নিরাপত্তা পরিষদের ১৩টি দেশের সমর্থনে পাস হয়েছে। আর রাশিয়া ও চীন তাদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রস্তাবটি আটকে না দিয়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

আরেকটি বিষয় হলো, এই প্রস্তাবে ১৩৫টি দেশ সহ-প্রস্তাবক হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা পরিষদের কোনো খসড়া প্রস্তাবে এত বেশি সংখ্যক দেশের সহ-প্রস্তাবক হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।

ইরানের সঙ্গে ‘স্পষ্ট অন্যায়’
সাত দেশের তোলা প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগেও যেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, তেমনি পাস হওয়ার পরেও কঠোর সমালোচনা করলেন জাতিসংঘে ইরানের দূত আমির সায়েদ ইরাভানি।

তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তটি আমার দেশের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অন্যায়, অথচ আমরা-ই একটি পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন আগ্রাসনের প্রধান শিকার।”

“এই সিদ্ধান্ত জমিনের বাস্তবতাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে এবং বর্তমান সংকটের মূল কারণগুলোকে উপেক্ষা করছে,” বলেন ইরাভানি।

তিনি বলেন, “আমাদের ওপর হামলা শুরু হয়েছিল সর্বোচ্চ নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে, সঙ্গে হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।”

অবশ্য এই প্রস্তাবে যেহেতু সরাসরি ইরানের নাম লেখা হয়েছে, তাই নিয়ম অনুযায়ী ইরানও এই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে অংশ নিয়ে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে। 

ঢাকা/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়