বেকার ভাতা দিয়ে বেইজ্জতি করব না, মর্যাদার কাজ দেব: জামায়াত আমির
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
শনিবার হবিগঞ্জ শহরের নিউফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
১১ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে কারো হাতে বেকার ভাতার কার্ড দিয়ে বেইজ্জতি করা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কর্মক্ষম মানুষের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তিনি দেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় হবিগঞ্জ শহরের নিউফিল্ড মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, “কর্মক্ষম মানুষকে কাজ দিলে তারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। গ্রামে গ্রামে কৃষি ভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে। মানুষ নিজের এলাকায় থেকে মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, “নির্বাচনের আগে কেউ পীর দরবেশ মুফতি হয়ে মানুষের কাছে ভোট চায়, আসলে তারা প্রতারক। ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে হেয় করা হবে না, কারো সাথে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হবে না, কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না, দেশকে বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাগজের সার্টিফিকেট সরবরাহের মাধ্যম না বানিয়ে অভিজ্ঞ মানুষ তৈরীর প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরো বলেন, “জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কেউ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না, স্বল্পমূল্যে প্লট ফ্ল্যাট নেবেন না, প্রতিবছর সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য থাকবেন। ৫ আগষ্টের পর জামায়াতে ইসলামী কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিল না, কিন্তু এই সময়ের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে মানুষের পাশে থাকতে হয়, ক্ষমতা পেলে সেই দায়িত্ব আরো বেড়ে যাবে, মানুষকে ফেলে আমরা কোথাও পালিয়ে যাব না।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “৫৪ বছরের একটি দেশ উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌছার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে, কিন্তু দুর্নীতির কারণে দেশ এগুতে পারেনি, ২৮ লাখ কোটি টাকা শুধু ১৫ বছরেই বিদেশে পাচার করা হয়েছে, এখনো বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়, চাদাবাজী হয়, মা বোনদের ইজ্জত লুন্ঠন হয়। এসব অপরাধের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ১৯৭১ সালে আমার ভাইসহ লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধ করেনি। বাংলাদেশের মাটির উপরে সম্পদ, নিচে সম্পদ, পানিতে সম্পদ, পানির গভীরে সম্পদ, এদেশ উন্নয়নের উচ্চ শিখরে না পৌঁছানোর কোনো কারণ ছিল না, দুর্নীতি দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।”
জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মামলাবাজদের হাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “হবিগঞ্জ জেলাকে দেখলে মনে হয় হবিগঞ্জের সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজ করা হয়েছে, নিজস্ব কোনো ক্যাম্পাস নাই, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নাই, চা বাগান আছে কিন্তু চা শ্রমিকদের জীবন মানের উন্নতি করা হয়নি। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে উন্নয়ন বঞ্চিত জেলাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।”
হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ জেলার ৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থীরা।
ঢাকা/মামুন/ইভা