কেরানীগঞ্জে সরিষা চাষে কৃষকের মুখে হাসি
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
সরিষা কাটছেন একজন কৃষক। ছবি: রাইজিংবিডি
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে, যা কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির ফলে এ সাফল্য এসেছে বলে জানা গেছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শাক্তা, কলাতিয়া, হযরতপুর ও বাস্তা ইউনিয়নে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধান কাটার পর পতিত জমিতে সরিষা চাষ করে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন। কম খরচে চাষাবাদ সম্ভব হওয়ায় সরিষা আবারো লাভজনক ফসল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এ মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার ৪১৬ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ বছর রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও অনুকূল তাপমাত্রা ফসলের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য সহায়ক হয়েছে। অনেক জমিতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
শাক্তা ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ধান কাটার পর যে জমি খালি পড়ে থাকত, সেখানে সরিষা আবাদ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। কম খরচ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লাভের আশাও বেশি।
কলাতিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সময়মতো বীজ বপন এবং কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শের ফলে চাষাবাদে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। আগের বছরের তুলনায় ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে ন্যায্যমূল্য পেলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাস্তা ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার সরিষার গাছ ঘন ও স্বাস্থ্যবান হয়েছে। উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভের সম্ভাবনাও বেড়েছে। ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী মৌসুমে আরো বেশি জমিতে সরিষা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহুয়া শারমিন মুনমুন বলেন, চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন অর্জনে কৃষি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি জানান, কৃষকদের মাঝে উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের বীজ সরবরাহ, সঠিক সময়ে বপন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ, সার ও কীটনাশক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ধান কাটার পর পতিত জমিকে চাষের আওতায় এনে সরিষা আবাদ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলক কম হওয়ায় এ বছর ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। অনেক কৃষক আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করায় উৎপাদন ব্যয় কমে এসেছে এবং লাভের পরিমাণ বেড়েছে। সরিষার ভালো ফলনের ফলে স্থানীয়ভাবে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা আমদানিনির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। বাজারে সরিষার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী মৌসুমে আরো বেশি কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহী হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঢাকা/শিপন/ফিরোজ