ইফতারে প্রথমে খেজুর খেলে শরীরে যা ঘটে
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ইফতারে প্রথমে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা অনেক। ছবি: সংগৃহীত
সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের কোটি মুসলমান খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.) রোজা ভাঙার জন্য খেজুর গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন—যা আজও মুসলমানরা মেনে চলেন। তবে ইফতারে প্রথমে খেজুর খাওয়া শুধু ধর্মীয় ঐতিহ্য নয়, এর রয়েছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও। খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে এর প্রভাব পড়ে। যেমন — দ্রুত শক্তি পাওয়া যায়, পুষ্টি পাওয়া যায়। এছাড়া হজম প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খেজুর একটি আদর্শ খাবার।
চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরের প্রথম প্রয়োজন হয় শক্তি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশিরের ভাষায়, ‘‘রোজা ভাঙার সময় শরীর দ্রুত গ্লুকোজ তৈরির চেষ্টা করে, কারণ এটি শরীরের প্রধান জ্বালানি। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ) উচ্চমাত্রায় থাকায় এটি খুব দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। ফলে ক্লান্তি কমে, শরীরে দ্রুত শক্তি ফিরে আসে।’’
শর্করা ও জটিল কার্বোহাইড্রেটের ভারসাম্য
খেজুরের বিশেষত্ব হলো—এতে সাধারণ শর্করার পাশাপাশি জটিল কার্বোহাইড্রেটও থাকে। তাই এটি তাৎক্ষণিক শক্তি দেওয়ার পাশাপাশি কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী শক্তিও জোগায়। যারা সারাদিন কিছু খাননি, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ প্রাকৃতিক শক্তির উৎস।
পুষ্টিগুণে ভরপুর
খেজুরে রয়েছে ভিটামিন এ, কে, বি৬, আয়রনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। অল্প পরিমাণ খেজুরই শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে সহায়তা করে। এ ছাড়া এতে থাকা আঁশ (ফাইবার) হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়
ঐতিহ্যগতভাবে অনেকে ইফতারে তিন, পাঁচ, সাতটি খেজুর খেয়ে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। এরপর মূল খাবার গ্রহণ করেন। খেজুরের আঁশ হজম শুরু হলে মস্তিষ্কে তৃপ্তির সংকেত পৌঁছায়। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে এবং খাবারের ভারসাম্য রক্ষা সহজ হয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
রমজানে অনেকের ওজন কমে যায়। তবে ইফতারে অতিরিক্ত ও ভারী খাবার খেলে ওজন বাড়তেও পারে। খেজুর দিয়ে শুরু করলে শরীর দ্রুত শক্তি পায় এবং অতিভোজনের ঝুঁকি কিছুটা কমে—যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
ঢাকা/লিপি